আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৩-২ গোলে হারের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিশর। দলের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো অভিযোগ করেছেন, ম্যাচে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে এবং রেফারির আচরণ দেখে তার কাছে ম্যাচটি ‘পাতানো’ বলেই মনে হয়েছে।
ম্যাচের বিবরণ ও বিতর্কিত মুহূর্ত
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রায় ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় লিওনেল মেসির দল।
ম্যাচের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্তে ছিলেন মোস্তফা জিকো। প্রথমার্ধে তার করা একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর বিল্ড-আপে ফাউলের অভিযোগে বাতিল করা হয়। এরপর ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে পেনাল্টি বক্সে মোহাম্মদ সালাহকে ফেলে দেওয়া হলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি বলে দাবি করে মিশর।
জিকোর ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় জিকো বলেন, “এটা একটা পাতানো ম্যাচ ছিল। এটা আমাদের দোষ নয়। রেফারির সিদ্ধান্তগুলো দেখে মনে হয়েছে ম্যাচের ফল আগেই ঠিক করা ছিল। আমরা ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও তিনি বারবার আমাদের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর্জেন্টিনাকে আরেকটি আগাম বিশ্বকাপ জয়ের শুভেচ্ছা—আমার অন্তত তাই মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “রেফারির পারফরম্যান্স মোটেও ভালো ছিল না। শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি চাননি আমরা জিতি। আমরা জানতাম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলছি। কিন্তু তারা যদি নিজেদের যোগ্যতায় জিতত, তাহলে আমাদের আক্ষেপটা ভিন্ন হতো।”
মিশরের পতন ও আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন
তবে শুধুমাত্র রেফারিং বিতর্কেই মিশরের বিদায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১২ মিনিট আগে পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি দলটি। শেষ দিকে টানা তিন গোল হজম করে ম্যাচ হাতছাড়া করতে হয় তাদের।
অবশ্য প্রথম গোল বাতিল হওয়ার হতাশা কাটিয়ে পরে আবারও গোল করেছিলেন জিকো। তার সেই গোলে মিশর পুনরায় দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আর্জেন্টিনা। অধিনায়কের অনুপ্রেরণায় টানা তিন গোল করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা নিশ্চিত করে স্মরণীয় জয়, আর হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হয় মিশরকে।



