বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর: শেষ টেস্ট ট্রেন্ট ব্রিজে
বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার বেন স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে চলমান সিরিজের শেষ টেস্টই হবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। অবসরের ঘোষণা দিয়ে স্টোকস বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত হয়তো অনেকের কাছে স্বার্থপর মনে হতে পারে, তবে এই মুহূর্তে এটিই তার জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।

অবসরের ঘোষণা ও প্রতিক্রিয়া

৩৫ বছর বয়সী স্টোকস ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের চতুর্থ দিনে আচমকাই অবসরের ঘোষণা দেন। সোমবার শেষ হবে তার ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। এই সময়ে তিনি খেলেছেন ১২২টি টেস্ট, ১১৪টি ওয়ানডে ও ৪৩টি টি-টোয়েন্টি।

স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টোকস বলেছেন, ‘শুনতে হয়তো কিছুটা স্বার্থপরের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে এই সিদ্ধান্তই সত্যিকার অর্থে আমার জন্য সবচেয়ে ভালো।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি আশা করি, দলের জন্যও এটি ইতিবাচক হবে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত আমাকে খেলাটিকে ভালোবাসতে সাহায্য করবে, যে খেলাটি আমাকে জীবনে এত কিছু দিয়েছে।’

অবসরের পেছনের কারণ

স্টোকস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গত তিন সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ তার অবসরের কারণ নয়। সম্প্রতি লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি। স্টোকস জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারের পর থেকেই অবসরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে শুরু করেছিলেন তিনি। চলতি গ্রীষ্মে লর্ডসে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের সময় সেই ভাবনা আরও জোরালো হয়।

এ প্রসঙ্গে স্টোকস বলেছেন, ‘লর্ডস টেস্ট আমাকে আবারও ক্যারিয়ারের একটি নেতিবাচক সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পর সবকিছু ঠিক করার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। অন্তত আমার তাই মনে হয়েছিল। এর পেছনে অনেক সময় ও পরিশ্রম দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে, আমি নিজেকেই নিঃশেষ করে ফেলেছি।’

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরিবারের ভূমিকা

স্টোকস জানান, শনিবার ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। সেদিন সন্ধ্যায় সাবেক অধিনায়ক জো রুট ও সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে বিষয়টি জানান। আর রবিবার সকালে পুরো দলকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেছেন, ‘গত চার-পাঁচ সপ্তাহ, এমনকি গত ছয় মাসও অনেক ঘটনাবহুল ছিল। এমন একটি দিন এলে নানা ধরনের অনুভূতি কাজ করে। স্বস্তি, আনন্দ, উত্তেজনা, দুঃখ- সবকিছুই একসঙ্গে আসে।’

ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্বকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান বলে উল্লেখ করেন স্টোকস। তবে এর আড়ালে থাকা মানসিক চাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি, ‘ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। কিন্তু এর আরেকটি দিকও আছে, যা সবাই দেখতে পায় না। শুধু আমার সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোই সেটি জানে।’

পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, ‘আমার পরিবার, বিশেষ করে আমার স্ত্রী, খুব কাছ থেকে দেখেছে কীভাবে এই দায়িত্ব আমাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দিয়েছে এবং অনেক সময় নেতিবাচকভাবেও প্রভাবিত করেছে।’