বৃষ্টিভেজা বালুর মাঠে জমজমাট ফুটবল: সাগুত্তায় বন্ধুত্বের গল্পে ৩-৩ ড্র
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছিল, যেন আকাশও আজকের খেলাটাকে একটু অন্য রকম করে তুলতে চায়। সাগুত্তা খেলার মাঠের চারপাশে জমে থাকা পানি, কিন্তু মাঝখানের বিস্তৃত বালুর মাঠটা একেবারে খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল। ফজরের নামাজ শেষে যখন আমরা মাঠে পৌঁছালাম, বাতাসে ছিল একধরনের সতেজতা, আর মনভরা উত্তেজনা। অনেক দিন পর আবার একসঙ্গে হওয়া। চোখে চোখে হাসি, মনে মনে চ্যালেঞ্জ—আজকের খেলা হবে জমজমাট।
দুই দলে বিভক্ত হয়ে শুরু হলো খেলা
দুই দল ভাগ হয়ে গেল সুন্দরভাবে। সভাপতির দলে ছিলেন শাহাজালাল, আব্দুস সাত্তার সুমন, তন্ময়, মুশফিক, মামুন, হাসান ও সিরাজ। অন্যদিকে, সেক্রেটারির দলে ছিলেন তসলিম, শায়েখ, শাহাদাত, মিলন, সাঈদ, আতিক ও রিফাত। খেলা শুরু হতেই বোঝা গেল আজকের ম্যাচটা সহজ হবে না। বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে পড়ছে, বালুর মাঠে বল কখনো দ্রুত ছুটছে, কখনো থমকে যাচ্ছে।
প্রথমেই আক্রমণে যায় সেক্রেটারির দল। শায়েখ বল নিয়ে এগোতে গিয়ে এক লম্বা পাস দিল তসলিমকে। তসলিম শট নিল, কিন্তু বলটা সোজা গোলের দিকে না গিয়ে পাশের পানিতে গিয়ে পড়ল! সবাই হেসে উঠল। এইটা গোল না, মাছ ধরার শট! হাসতে হাসতে বলল হাসান। মিলন দৌড়ে গিয়ে পানির ভেতর থেকে বলটা তুলে আনল এবং আবার খেলা শুরু হলো।
গোলের পর গোল, উত্তেজনা বাড়তে থাকে
এরপর সভাপতি দলের পালা। আব্দুস সাত্তার সুমন মাঝমাঠে বল ধরে তন্ময়কে পাস দিলেন। তন্ময় দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শট নিল এবং গোল করল! চারপাশে আনন্দের চিৎকার। খেলা যত এগোতে লাগল, ততই রোমাঞ্চ বাড়তে লাগল। মাঝেমধ্যে বল পানিতে পড়ে যাচ্ছে, কেউ দৌড়ে গিয়ে তুলে আনছে, কেউ ভেজা পায়ে আবার খেলায় ফিরে আসছে। এই ছোট ছোট ঘটনাগুলোই যেন খেলাটাকে আরও জীবন্ত করে তুলছিল।
মুশফিকের দারুণ এক হেডে দ্বিতীয় গোল হলো, আবার সাঈদের জোরালো শটে পাল্টা গোল করল সেক্রেটারি দল। মামুন মাঝমাঠে দারুণ নিয়ন্ত্রণ রাখছিল, আর হাসান ডিফেন্সে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। অন্যদিকে, শাহাদাত ও আতিক একের পর এক আক্রমণ সাজাচ্ছিল। বৃষ্টির ফোঁটা, বালুর মাঠ, আর চারপাশে জমে থাকা পানির মাঝে খেলা যেন এক অন্য রকম গল্প হয়ে উঠল।
শেষ পর্যন্ত স্কোর দাঁড়াল ৩-৩
সময় শেষ হয়েছে বলল শাহজালাল, সবাই হাঁপাতে হাঁপাতে দাঁড়িয়ে পড়ল। কেউ হেসে উঠল, কেউ বলল আরেকটা ম্যাচ হওয়া উচিত ছিল! খেলা শেষে সবাই একসঙ্গে বসে পড়লাম। ভেজা শরীর, বালু মাখা পা, তবু মুখে তৃপ্তির হাসি। কলা, রুটি আর পানি—সেই সাধারণ নাশতাটাই হয়ে উঠল অসাধারণ।
তসলিম বলল, বল যতবার পানিতে পড়েছে, ততবার মজা বেড়েছে! শাহাজালাল হেসে উত্তর দিলেন, এই আনন্দটাই তো আসল জয়। সাগুত্তা মাঠ সেদিন শুধু একটা খেলার জায়গা ছিল না, ওটা হয়ে উঠেছিল বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল গল্প, যেখানে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি, বালুর মাঠ আর পানিতে পড়ে যাওয়া বল সব মিলিয়ে লিখে দিয়েছিল এক অবিস্মরণীয় দিনের ইতিহাস।



