বসুন্ধরা কিংসের ঘরে অর্থ সংকটের আগুন, বিদেশি ফুটবলারদের ম্যাচ বয়কটে দল বিপাকে
বসুন্ধরা কিংসের ঘরে অশান্তি চলছে, যা দীর্ঘদিন নীরবে চাপা পড়েছিল, এখন তা আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েছে। ক্লাবের কর্মকর্তাদের একপাশে সরিয়ে রাখার পর বাকি সদস্যরা শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না, আর এই অশান্তি সরাসরি ফুটবল মাঠের লড়াইয়ে প্রভাব ফেলছে। সব দলকে ছাপিয়ে এগিয়ে চলা বসুন্ধরা কিংস এখন পয়েন্ট টেবিলে দুশ্চিন্তায় রয়েছে, আর ঘরের আগুন নেভাতে ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসান চেষ্টা করছেন, যদিও তা কতটা সফল হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অর্থ সংকট: অশান্তির মূল কারণ
ঘরে অশান্তির বড় কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক সংকট। ফুটবলাররা, দেশি কিংবা বিদেশি, নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না, মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থেকে যাচ্ছে। এই সমস্যা প্রথমে নিজেদের ভেতরে থাকলেও তা প্রকাশ পায় অনুশীলনে, যখন খেলোয়াড়রা অনুশীলন বয়কট করেন। বিদেশি ফুটবলাররা, যারা অনেক দিন ধরেই তাদের পারিশ্রমিক নিয়ে অনুরোধ করে আসছিলেন, ক্লাব থেকে সাড়া না পেয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ম্যাচ না খেলার।
বিদেশি ফুটবলারদের বয়কট এবং ম্যাচের ফলাফল
বসুন্ধরা কিংসে তিন জন বিদেশি ফুটবলার রয়েছেন: নাইজেরিয়ান এমানুয়েল সানডে, ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটন গোমেজ এবং নাইজেরিয়ান এমানুয়েল টনি। গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে বসুন্ধরা কিংস তাদের বিদেশি ফুটবলারদের ছাড়াই খেলেছে, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। বীরদর্পে এগিয়ে থাকা কিংসকে রহমতগঞ্জ ঠেকিয়ে দেয়, এবং ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ১৩ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের গোলে এগিয়ে থাকা কিংসের জালে গোল হয় ৪২ মিনিটে, আর এই ড্রই দলের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরিকল্পনায় রশি টানাটানি লাগিয়ে দেয়, বিশেষ করে আবাহনী এবং ফর্টিস এফসির সাথে প্রতিযোগিতায়।
ক্লাবের প্রতিক্রিয়া এবং সমাধানের চেষ্টা
ক্লাবের সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি ফুটবলারদের পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল, এবং তারা বৃহস্পতিবার টাকা পাবেন বলে মনে করেছিলেন, যেখানে ভুলবুঝাবুঝি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। দেশি ফুটবলাররা ম্যাচ বয়কট না করলেও তারা অনুশীলন বয়কট করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, এবং ক্লাব সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি সমাধানের পথে এগিয়েছে। ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান বিষয়টি সমাধানের জন্য কথা বলছেন, এবং তার ওপর আস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে, ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের দাবি, বকেয়া পারিশ্রমিক ইস্যুতে দেশি ফুটবলাররা বিদেশি ফুটবলারদেরকে সামনে ঠেলে দিচ্ছেন।
ফিফার অভিযোগ এবং দলের ভবিষ্যৎ
বকেয়া পারিশ্রমিক ইস্যুতে বসুন্ধরা কিংস যে শান্তিতে নেই, তা পরিষ্কার, এবং ফিফার টেবিলে ক্লাবের বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগ জমা রয়েছে, যা কোচ এবং খেলোয়াড়দের করা। পারিশ্রমিক না পেলে সাধারণত ফিফার টেবিলে অভিযোগ করা হয়, এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাব নতুন খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করাতে পারে না। গত ১০ বছর ধরে বসুন্ধরা কিংস বড় বাজেটে ফুটবল দল গড়ে আসছে, রিজার্ভ বেঞ্চ শক্তিশালী থাকলেও, খেলোয়াড়রা নিয়মিত খেলার নিশ্চয়তা না পেয়ে লোভনীয় পারিশ্রমিকের জন্য ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। যাদের কাছে বসুন্ধরা কিংস ছিল সুখের ঘর, তাদের কাছে সেই ঘর এখন দুঃখের ঘরে পরিণত হয়েছে, এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



