ঐতিহাসিক গাবতলী মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
ঢাকার মিরপুর মাজার রোড সংলগ্ন ১০৭ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গাবতলী খেলার মাঠের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তা পুনরায় খেলার উপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার (১৯ এপ্রিল) এই মাঠ পরিদর্শনকালে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাঠ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু
মাঠ পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, "এই মাঠে কাজী সালাউদ্দীন থেকে শুরু করে আমি নিজেও ফুটবল খেলেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশের গ্রামীণ জনপদসহ ঢাকা মহানগরের যেখানেই খেলার মাঠ দখলদারদের কবলে আছে, তা উদ্ধার করার কার্যক্রম শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।"
আইনি প্রক্রিয়া মেনে দখলমুক্তকরণ
গাবতলী মাঠের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, "এখানে আদালতের একটি রায় রয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে মাঠের বৃহৎ অংশটি দখলমুক্ত করব। এখানে কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। এটি এলাকাবাসী ও স্কুলের শিশুদের খেলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।"
সিটি কর্পোরেশনের কঠোর হুঁশিয়ারি
এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, "আমরা সরেজমিনে দেখেছি, মাঠের চার ভাগের দুই ভাগের বেশি অংশে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় যত অবৈধ স্থাপনা আছে, তার সব উচ্ছেদ করা হবে। আমরা স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে কথা বলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেব, এর মধ্যে দখল না ছাড়লে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মাঠ শুধু খেলাধুলা নয়, এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হবে।"
মাঠের ঐতিহাসিক পটভূমি
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আজ থেকে ১০৭ বছর আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ১.৭ একর আয়তনের এই মাঠটি ওয়াক্ফ করে গিয়েছিলেন। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ।
অবৈধ দখলের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মদদে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক বাবলা নামের এক ব্যক্তি করোনা মহামারির সময় রাতের আঁধারে মাঠের জায়গা দখল করে অবৈধ ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করেন। তৎকালীন সংসদ সদস্য আসলামের ছত্রছায়ায় মাঠের জমি বিভিন্ন জনের কাছে ইজারা দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে প্রতিমন্ত্রী ও সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক উভয়েই জানিয়েছেন।



