পূর্বাচল স্টেডিয়াম নির্মাণে নতুন গতি, ডিজাইন পরিবর্তনের ঘোষণা
নাজমুল ইসলাম পাপনের বোর্ড থেকে শুরু করে সবশেষ আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড পর্যন্ত, পূর্বাচলে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের স্বপ্ন বহুদিন ধরে লালিত ছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন অজানা কারণে এই প্রকল্পটি আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এখন তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পুরো পরিকল্পনায় নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে।
মাঠ পরিদর্শন ও নতুন ডিজাইনের প্রস্তাব
গতকাল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ এনএসসি ও বিসিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পূর্বাচলের প্রস্তাবিত স্টেডিয়াম সাইট পরিদর্শনে গিয়েছেন। এই সফরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে স্টেডিয়ামের বর্তমান ডিজাইনটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তামিম ইকবালের বোর্ড পূর্বের বুলবুল বোর্ডের ডিজাইন থেকে সরে এসে নতুন পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে।
এই বিষয়ে তামিম ইকবাল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, 'আজকে মাননীয় মন্ত্রী এসেছেন, আমরা পুরো ডিজাইনটি তাকে দেখিয়েছি এবং প্রেজেন্টেশন দিয়েছি। এখানে কিছু পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। আমরা শুধু পরিবর্তন করার জন্য পরিবর্তন আনব না, বরং কিছু নির্দিষ্ট ডিজাইন সংশোধন করা প্রয়োজন।'
২০২৭ এশিয়া কাপ ও ২০৩১ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার বক্তব্যে গুরুত্ব দিয়েছেন আসন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইভেন্টের দিকে। তিনি বলেন, '২০২৭ সালে আমাদের এশিয়া কাপ আয়োজনের দায়িত্ব রয়েছে এবং ২০৩১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আমরা সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নেব। এই চিন্তা থেকেই আমরা আশা করছি যে প্রথম ধাপে ক্রিকেট বোর্ড নিজেই কার্যক্রম শুরু করবে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে যেসব সহায়তা প্রয়োজন, সেগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে।'
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে এই প্রকল্পটি যাতে আর কোনো বিলম্ব বা জটিলতার মুখোমুখি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যান্য খেলার সুযোগ
পূর্বাচল স্টেডিয়াম শুধুমাত্র ক্রিকেটের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অন্যান্য খেলাধুলার জন্যও আলাদা সুযোগ-সুবিধা সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, 'এখানে আমাদের চেষ্টা থাকবে ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যান্য কিছু খেলাকে যুক্ত করা। মাননীয় মন্ত্রী বলেছেন, যদি আমরা অন্যান্য স্পোর্টসকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।'
তামিম আরও উল্লেখ করেন যে বিসিবি আর্থিকভাবে অন্যান্য অনেক ক্রীড়া বোর্ডের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, তাই অন্যান্য খেলার উন্নয়নে সহায়তা করার দায়িত্বও তাদের রয়েছে।
এনএসসি ও বিসিবির যৌথ উদ্যোগ
স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ এনএসসি ও বিসিবির যৌথ তত্ত্বাবধানে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তামিম ইকবাল বলেন, 'যারা এই ডিজাইন তৈরি করেছেন, তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। প্রয়োজনে অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও পরামর্শ করে এনএসসির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেব। কারণ একটি বড় স্টেডিয়াম নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।'
এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র ক্রিকেটের জন্য নয়, বরং একটি বহুমুখী ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।



