মিয়ামিতে মেসির বিরুদ্ধে মামলা, ৭০ লাখ ডলারের চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম তারকা লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে মিয়ামিভিত্তিক একটি ইভেন্ট প্রমোটিং কোম্পানি মামলা করেছে। অভিযোগ, গত বছর একটি নির্ধারিত প্রদর্শনী ম্যাচে অংশগ্রহণ না করে মেসি ৭০ লাখ ডলারের একটি চুক্তির শর্তাবলী ভঙ্গ করেছেন।
মামলার বিবরণ ও অভিযোগ
আদালতের নথি অনুযায়ী, ভিড মিউজিক গ্রুপ নামের কোম্পানিটি গত মাসে মিয়ামি-ডেড সার্কিট কোর্টে এই মামলা দায়ের করে। মামলায় মেসি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কোম্পানিটি দাবি করেছে যে, তারা অক্টোবরে আর্জেন্টিনার ভেনেজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকোর বিরুদ্ধে হওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো আয়োজন ও প্রচারের একচেটিয়া অধিকার পেয়েছিল। এর বিনিময়ে তারা টিকেট বিক্রি, সম্প্রচার অধিকার এবং স্পনসরশিপ রাজস্ব পাবার কথা ছিল। চুক্তি অনুসারে, মেসিকে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট খেলতে হতো, যদি না তিনি আহত হন।
ম্যাচে মেসির অনুপস্থিতি ও পরিণতি
অক্টোবর ১০ তারিখে ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে মেসি খেলেননি। তিনি স্টেডিয়ামের একটি স্যুট থেকে ম্যাচ দেখেছিলেন। তবে, পরের দিনই তিনি তার ক্লাব ইন্টার মিয়ামির হয়ে এমএলএস ম্যাচে অংশ নেন। সেখানে তিনি দুটি গোল করে দলকে ৪-০ গোলে জয় এনে দেন।
এরপর অক্টোবর ১৪ তারিখে আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো রিকোর বিরুদ্ধে ৬-০ গোলে জয়ের ম্যাচে মেসি অংশগ্রহণ করেন। এই ম্যাচটি মূলত শিকাগোতে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কম টিকেট বিক্রি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ফ্লোরিডায় স্থানান্তরিত হয়।
প্রমোটারের ক্ষতি ও বর্তমান অবস্থা
প্রমোটার কোম্পানিটি অভিযোগ করেছে যে, মেসির এক ম্যাচে অনুপস্থিতি এবং অপর ম্যাচে দর্শকের স্বল্প উপস্থিতির কারণে তাদের লক্ষ লক্ষ ডলারের ক্ষতি হয়েছে। মেসি এবং এএফএ এখনও এই মামলার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এই ঘটনা ফুটবল জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং খেলোয়াড়দের চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। মিয়ামির আদালতে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এর ফলাফল ফুটবল শিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



