লিভারপুলের হতাশাজনক বিদায়: চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়ার গল্প
মাত্র এক বছর আগে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছিল লিভারপুল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দলবদলে তারা রেকর্ড ৪৮ কোটি ১৯ লাখ ইউরো খরচ করে। ইউরোপের বাছাইকৃত তারকাদের নিয়ে দল সাজিয়ে শুরুটাও বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পরই অ্যানফিল্ডের ক্লাবটি পথ হারায়। সেই থেকে হারানো পথ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি লিভারপুলের।
চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় এবং শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গ
চলতি মৌসুমে লিভারপুলের জন্য সব শিরোপাই হাতছাড়া হয়ে গেছে। সর্বশেষ গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ২–০ গোলে হারে তারা। দুই লেগ মিলিয়ে ৪–০ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছে অ্যানফিল্ডের এই ক্লাবটি। পুরো মৌসুমে এখন লিভারপুলের সাফল্য নির্ভর করছে পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে সুযোগ পাওয়ার ওপর। তবে এই কাজটি একেবারেই সহজ হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা না খেলার বিষয়টি সরাসরি জড়িয়ে আছে লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লটের ভবিষ্যতের সঙ্গেও। স্লট নিজেই মন্তব্য করেছেন যে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে না পারাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এই অবস্থানে কোচের পদত্যাগ বা ক্লাব কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পিএসজির বিপক্ষে লড়াই এবং হতাশার স্বাদ
পিএসজির বিপক্ষে হারের মধ্য দিয়ে লিভারপুল চলতি মৌসুমে ১৭তম পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেয়েছে। তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটি ছিল তাদের ভালো ম্যাচগুলোর একটি। ৭২ মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলের আগ পর্যন্ত ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেছে লিভারপুল। পিএসজির কোচ লুইস এনরিকেও বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, দুটি দলই খুব ভালো ফুটবল খেলেছে, ম্যাচটা ছিল ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
তবে লিভারপুলের জন্য এসব কথা শুধুমাত্র সান্ত্বনার বিষয়। বাস্তবতা হলো, দুই ম্যাচে ৪–০ গোলে হেরে তারা বিদায় নিয়েছে এবং শিরোপা জয়ের সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্লট এই হতাশা আড়াল করেননি। তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা ভীষণ হতাশ। দ্বিতীয়ার্ধে এমন কিছু সময় ছিল, যখন মনে হচ্ছিল, এখন যদি একটা গোল করতে পারি, তাহলে রাতটা বিশেষ কিছু হয়ে উঠতে পারে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কোচ স্লটের আশাবাদ
শূন্য হাতে মৌসুম শেষ হলেও দল নিয়ে আশাবাদী রয়েছেন কোচ স্লট। তিনি উল্লেখ করেন, এই দল ও এই ক্লাবের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। আমরা দেখিয়েছি, নিজেদের মাঠে ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গেও সমানে লড়তে পারি। পিএসজির মতো দলের বিপক্ষে আধিপত্য দেখানো বা এত সুযোগ তৈরি করা সব দলের পক্ষে সম্ভব নয়।
এখন প্রধান প্রশ্ন হলো, স্লটের অধীনে লিভারপুল কি আগামী মৌসুমে আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারবে? এই উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৩২ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে লিভারপুল। সামনের ম্যাচগুলোয় পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হলে চ্যাম্পিয়নস লিগের আগামী মৌসুমে খেলার সুযোগ না-ও পেতে পারে তারা।
চোটের সমস্যা এবং দলের সংকট
ইংলিশ ক্লাবটির দুঃসময়কে আরও কঠিন করে তুলেছে উগো একিতিকের চোট। গতকাল রাতে ম্যাচের ৩২ মিনিটে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ২৭ মিনিটে পিছলে গিয়ে ডান পায়ে, বিশেষ করে গোড়ালিতে চোট পান এই ফরাসি স্ট্রাইকার। ম্যাচ শেষে তাঁর চোট নিয়ে কোচ স্লট বলেছেন, দেখে ভালো মনে হচ্ছে না। আসলে অবস্থা বেশ খারাপ বলেই মনে হচ্ছে। তবে ঠিক কতটা খারাপ, সেটা এখনই বলা কঠিন। আগামীকাল আমরা আরও পরীক্ষা করে দেখব।
লিভারপুলের এই সংকটময় পরিস্থিতি ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কোচের অবস্থান এবং খেলোয়াড়দের মনোবল নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে পরের মৌসুমে তারা আবার প্রতিযোগিতামূলক ফর্মে ফিরে আসতে পারে।



