লেস্টার সিটির বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর ক্লাব তৃতীয় বিভাগে নামার শঙ্কায়
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চালু হওয়ার পর থেকে মাত্র চারটি দল টানা দুই মৌসুমে অবনমনের শিকার হয়েছে। এবার সেই তালিকায় পঞ্চম দল হতে পারে বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর ক্লাব লেস্টার সিটি। এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিষাদময় এক গল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রূপকথা থেকে দুঃস্বপ্নের যাত্রা
২০১৫-১৬ মৌসুমে রূপকথার মতো জন্ম দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল লেস্টার সিটি। ২০২২–২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে গিয়ে আবারও ফিরে এসেছিল ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে। কিন্তু ২০২৪–২৫ মৌসুমে আবারও অবনমন ঘটে তাদের, নেমে যায় চ্যাম্পিয়নশিপে। এবার সেই দ্বিতীয় বিভাগ থেকেও অবনমিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে লেস্টার সিটি।
চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টারের বর্তমান অবস্থান
মোট ২৪ দলের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে লেস্টার সিটি ৪২ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে এখন ২৩তম স্থানে রয়েছে। তাদের সমান ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ২২তম স্থানে আছে অক্সফোর্ড ইউনাইটেড। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে অবস্থান করছে শেফিল্ড ওয়েনসডে। পয়েন্ট তালিকায় সবচেয়ে নিচে থাকা তিন দল নেমে যাবে তৃতীয় বিভাগে। লেস্টারের অবনমন এড়ানোর সুযোগ এখনো আছে। গ্যারি রোয়েটের দলের হাতে আছে ৪ ম্যাচ। নিরাপদ অবস্থান থেকে এখনো ৪ পয়েন্টের দূরত্বে রয়েছে লেস্টার। ৪১ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে ২১তম স্থানে আছে পোর্টসমাউথ।
মুখোমুখি লড়াই এবং কোচের মন্তব্য
চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল রাতে ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল পোর্টসমাউথের। পোর্টসমাউথ জিতলে চাপে পড়ে যাবে লেস্টার। তখন লেস্টারের চেয়ে ৭ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে যাবে পোর্টসমাউথ। আগামী শনিবার পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ম্যাচ আছে লেস্টারের। এ ম্যাচকে অবনমন এড়ানোর শেষ সুযোগ বলেই মনে করেন মৌসুমের মাঝে গত ফেব্রুয়ারিতে লেস্টার কোচের দায়িত্ব নেওয়া রোয়েট। তিনি বলেন, ‘সোজা কথায়, আমাদের পোর্টসমাউথের মাঠে গিয়ে জিততেই হবে। এই ম্যাচটা জিততে না পারলে আমাদের সামনে আর কোনো সুযোগ থাকবে না বলেই আমার বিশ্বাস।’
দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা এবং আর্থিক জটিলতা
লেস্টারের সাবেক খেলোয়াড়, ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের সবাই মনে করেন, এ হতাশাজনক পরিস্থিতি এক দিনে তৈরি হয়নি। দুই মৌসুম আগে চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতে প্রিমিয়ার লিগে ফেরার পর থেকে লেস্টারের পারফরম্যান্স গ্রাফ কেবল নিচের দিকেই নেমেছে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মের পর ৮০ লিগ ম্যাচে মাত্র ১৭টিতে জয় পেয়েছে। দুর্ভাগ্যও তাড়া করেছে তাদের। আর্থিক ব্যয়সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙায় লেস্টার সিটির ৬ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আপিল গত সপ্তাহে খারিজ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে পয়েন্ট কাটা না হলেও লেস্টারের বিপদ তেমন কাটত না। ৬ পয়েন্ট ফেরত পেলে লেস্টার বড়জোর ২০তম স্থানে থাকত।
হামজা চৌধুরীর ভূমিকা এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রিমিয়ার লিগ জেতার পর তৃতীয় বিভাগে খেলার তেতো অভিজ্ঞতা আছে শুধু ব্ল্যাকবার্নেরই। লেস্টারের প্রিমিয়ার লিগ জয়ের ১০ বছর পূর্তি হবে আগামী ২ মে। দিনটি আসার আগেই অবনমন নিশ্চিত হয়ে গেলে ইংলিশ ফুটবলের একসময়ের সেই রূপকথা পরিণত হবে দুঃস্বপ্নে। সেটা হবে লেস্টারের জন্য অনেক বড় ধাক্কাও। চ্যাম্পিয়নশিপে আর কোনো ক্লাব তাদের খেলোয়াড়দের এত বেশি বেতন দেয় না। প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকার মরিয়া চেষ্টা থেকেই চড়া বেতনে খেলোয়াড় ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর এই ক্লাব। লেস্টারের হয়ে এবারের চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুমে ২৫ ম্যাচ খেলেছেন হামজা।
অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকায় নাম লেখানোর সম্ভাবনা
অবনমন যদি শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েই যায়, তবে এক অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকায় নাম লেখাবে লেস্টার সিটি। ম্যানচেস্টার সিটি, ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স, শেফিল্ড ইউনাইটেড ও হাডার্সফিল্ড টাউনের পাশে বসবে তারা। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ জিতলেও তৃতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার তেতো অভিজ্ঞতা আছে এই চার ক্লাবের। এদের মধ্যে শুধু ব্ল্যাকবার্ন প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পর তৃতীয় স্তরে নেমেছে। লেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত, এবং হামজা চৌধুরীর মতো তারকা খেলোয়াড়ের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং সময়।



