আইসিসির নতুন উদ্যোগ: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ হচ্ছে তিন দল, মোট হবে ১২ দল
ক্রিকেটের বিশ্বায়নে মনোযোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থাটি শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট নয়, এবার টেস্ট ক্রিকেটকেও আরও ছড়িয়ে দিতে চাইছে। এই লক্ষ্যে আসছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি দল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নয় থেকে বারো দলের যাত্রা
বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় মাত্র নয়টি দল। আইসিসি সেটি বাড়িয়ে ১২ দলে উন্নীত করতে চায়। ২০২৭-২৯ চক্রে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারে ১২ দল। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের প্রসার আরও বাড়াতে আইসিসির এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আইসিসির সব পূর্ণ সদস্য দেশ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারবে। বর্তমানে আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে রয়েছে। নতুন প্রস্তাব পাশ হলে তারাও সমান সুযোগ পাবে। আইসিসির আসন্ন ত্রৈমাসিক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
দুই স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপের পরিকল্পনা ব্যর্থ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা দেশগুলোর মধ্যে ১২টির টেস্ট মর্যাদা থাকলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ হয় নয় দল নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে না থাকায় নিয়মিত টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। এ সংকটের সমাধানে র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে ১২ দলকে ভাগ করে দুই স্তরের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালুর কথা ভাবছিল আইসিসি।
কিন্তু একাধিক পূর্ণ সদস্য দেশের বিরোধিতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। সবাইকে সমান সুযোগ দিতে এবার নয় দলের পরিবর্তে ১২ দল নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পথে হাঁটছে আইসিসি।
নতুন মডেল উপস্থাপন করবেন রজার টুজ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে আইসিসির ওয়ার্কিং গ্রুপ। এ মাসের শেষদিকে অথবা আগামী মাসের শুরুতে আইসিসির সভায় ১২ দলের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন মডেল উপস্থাপন করবেন কমিটির প্রধান নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টুজ।
বোর্ড সদস্যদের অনুমোদন পেলে ২০২৭ সালের জুনে চালু হবে এই মডেল। ক্রিকইনফো জানিয়েছে, নতুন মডেল কার্যকর করতে পরবর্তী চক্রে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজও অনুমোদন পেতে পারে।
এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজের সম্ভাবনা
আর্থিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় বড় দলগুলো সাধারণত ছোট দলগুলোর সঙ্গে টেস্ট খেলতে চায় না। এক টেস্টের সিরিজ হলে আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে আপত্তি থাকবে না অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোর। পয়েন্টের হিসাব হবে তিন বা পাঁচ ম্যাচের সিরিজের মতোই সমানভাবে বিবেচনা করা হবে।
আইসিসির এই উদ্যোগ টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে ক্রিকেটের এই প্রাচীন ফরম্যাটটিকে টিকিয়ে রাখতে সংস্থাটি বদ্ধপরিকর।



