বাংলাদেশ ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা: বাফুফে কোচ পরিবর্তনের পথে
বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে দেশের ফুটবল প্রশাসন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জাতীয় ফুটবল দলের কোচিংয়ের দায়িত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মাধ্যমে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরারার অধীনে চলা যুগের অবসান হতে চলেছে, যার চুক্তি ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে।
কোচিং পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ও কাবরারার ভবিষ্যৎ
শনিবার জাতীয় দল কমিটির সভায় বাফুফে কাবরারার সঙ্গে আপাতত নতুন চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, তাকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়নি; তিনি চাইলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন এবং অন্যান্য প্রার্থীদের মতোই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, '৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা ভালো কোচের সিভি খুঁজবো। চাইলে সেও (কাবরারা) আবেদন করতে পারে। কোচদের সাক্ষাৎকার নিয়ে যাকে যোগ্য বা বেটার মনে হবে, তাকেই নেওয়া হবে।'
চার বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা কাবরারা প্রত্যাশিত সাফল্য দিতে পারেননি, যা গত এক বছর ধরে তার বিদায়ের দাবিকে জোরালো করে তুলেছিল। তার অধীনে বাংলাদেশ ৩৯টি ম্যাচে মাত্র ১০টি জয় পেয়েছে, ১০টি ড্র করেছে এবং ১৯টি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। খেলোয়াড় নির্বাচন ও ম্যাচ কৌশল নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি।
গোলকিপিং কোচ নিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিকল্পনা
বাফুফে শুধু প্রধান কোচই নয়, একটি স্থায়ী গোলকিপিং কোচও নিয়োগ দিতে চায়, যিনি দুই বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। আমিরুল ইসলাম বাবু এ বিষয়ে বলেছেন, 'আমরা হেড কোচের মতো গোলকিপিং কোচও দুই বছর মেয়াদে নিতে চাই। একই প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।'
এদিকে, বিশ্বকাপের আগে জুনের প্রথম সপ্তাহে ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে বাফুফে। মালদ্বীপে চার জাতির টুর্নামেন্টে খেলার প্রস্তাব রয়েছে, এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। বাবু জানিয়েছেন, 'আমরা থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপ—দুটো নিয়েই কাজ করছি। জুন উইন্ডোতে বাংলাদেশ দল খেলবে, এটা নিশ্চিত।'
কোচিং পদ্ধতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমালোচনা
জাতীয় দল কমিটির সভায় প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণার পর খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে না ডাকার জন্য কোচের পদ্ধতিকে সমালোচনা করেছেন একাধিক সদস্য। এটি ইঙ্গিত দেয় যে দলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ ফুটবলে একটি নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা হতে যাচ্ছে, যেখানে বাফুফে একটি কার্যকর ও সফল কোচিং টিম গঠনের মাধ্যমে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে চায়।



