নেইমার বাদে ব্রাজিল দলে আনচেলত্তির সিদ্ধান্তে মরিনিওর তীব্র সমালোচনা
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দল থেকে তিনি তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারকে বাদ দিয়েছেন, যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন খেলোয়াড়ের শতভাগ ফিট না থাকা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় পর্তুগিজ কোচ জোসে মরিনিও সরাসরি আনচেলত্তিকে সমালোচনা করে বলেছেন, এটি নেইমারের প্রতি শ্রদ্ধার ঘাটতি এবং একটি গুরুতর ভুল।
ফিটনেস নিয়ে বিতর্ক ও নেইমারের প্রতিক্রিয়া
৩৪ বছর বয়সি নেইমার, যিনি বর্তমানে সান্তোস ক্লাবে খেলছেন, তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আনচেলত্তি দাবি করেছেন যে নেইমার পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় তাকে দলে রাখা যায়নি। তবে, নেইমার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সম্প্রতি ফ্রান্সের কাছে ব্রাজিলের হারের পর, সান্তোসের একটি অনুশীলন ম্যাচে তিনি তার জাদুকরী ফুটবল দক্ষতা প্রদর্শন করে সমর্থকদের মুগ্ধ করেছেন। ক্লাবের অনূর্ধ্ব-২০ দলের বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে নেইমারের হাতে এখন ১৪টি ম্যাচ রয়েছে কোচ আনচেলত্তির মন জয় করার জন্য। তিনি নিজেকে ফিট প্রমাণের ব্যাপারে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
মরিনিওর কঠোর সমালোচনা
এদিকে, আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন পর্তুগিজ কোচ জোসে মরিনিও। তিনি মিডিয়াকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'পর্তুগাল যদি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে কিংবা আর্জেন্টিনা যদি লিওনেল মেসিকে দলে না ডাকে, কেমন হবে ভাবুন। পারস্পরিক কোনো সমঝোতা ছাড়া নেইমারের মতো খেলোয়াড়কে আপনি জাতীয় দলের বাইরে রাখতে পারেন না। এটা নেইমারের প্রতি শ্রদ্ধার ঘাটতি। আনচেলত্তি ভুল করেছেন।'
মরিনিওর এই মন্তব্য ফুটবল সম্প্রদায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি শুধু আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত নয়, বরং নেইমারের মতো একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ফিটনেস ইস্যুটি সঠিকভাবে পরিচালনা না করলে এটি ব্রাজিল দলের জন্য বিশ্বকাপে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
নেইমার বর্তমানে তার ফর্ম ফিরে পেতে কঠোর পরিশ্রম করছেন। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন এবং কোচ আনচেলত্তির সাথে তার সম্পর্ক কীভাবে উন্নত হবে, তা এখন দেখার বিষয়। বিশ্বকাপ ২০২৬ এর দিকে তাকিয়ে ব্রাজিল দলকে শক্তিশালী করতে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ফুটবল প্রেমীরা আশা করছেন, দ্রুতই এই বিতর্কের সমাধান হবে এবং নেইমার আবারও জাতীয় দলে তার জায়গা করে নেবেন।



