বিসিবিতে অবৈধ নিয়োগ তদন্ত শুরু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দিলেন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু হতে যাচ্ছে। রোববার সংসদ অধিবেশনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০০৮ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডে দলীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে যেসব অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত তদন্ত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য: ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার উদ্যোগ
প্রশ্নোত্তর পর্বে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের উত্তরে আমিনুল হক বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্রিকেট বোর্ডসহ দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে স্থবিরতা এসেছিল। এই ধ্বংসস্তূপকে দলীয়করণমুক্ত ও রাজনীতিকরণমুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিসিবির অর্থ ও জনবল ব্যবহার করে ভোটের অধিকার হরণের মতো অপকর্ম করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বোর্ডের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ তদন্তের আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, "আমাদের সামনে বিসিবির দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার কিছু ইস্যু পরিলক্ষিত হয়েছে। দুদকের মহাপরিচালকের কাছে আহ্বান করব, এই বিষয়ে কোনো তদন্ত থাকলে যেন আমাদের জানানো হয় এবং সেগুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুতই জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। সরকারের এই পদক্ষেপ ক্রিকেট বোর্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, "ক্রিকেট বোর্ডের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ইনশা আল্লাহ।"



