৭৮ বছর বয়সে ব্রিস্টল সিটিতে কোচিংয়ে ফিরলেন রয় হজসন
ফুটবল জগতে রয় হজসনের নামটি হয়তো অনেকের কাছেই প্রায় বিস্মৃতির আড়ালে চলে গিয়েছিল। গত শতাব্দীর আশির দশকে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করা এই ইংলিশ কোচের সুস্থতা নিয়েও হয়তো অনেকে অবগত ছিলেন না। কিন্তু শুক্রবার ব্রিস্টল সিটি ক্লাবের এক বিবৃতি তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
দীর্ঘ বিরতির পর ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন
ব্রিস্টল সিটি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, চলতি মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য দলটির নতুন কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ৭৮ বছর বয়সী রয় হজসন। তিনি সদ্য বরখাস্ত গেরহার্ড স্ট্রবারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রায় আশির কাছাকাছি বয়সে হজসনের কোচিংয়ে ফেরাটাই একটি বড় ঘটনা, তবে এর চেয়েও বড় কীর্তি হলো তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময়গত রেকর্ড।
১৯৭৬ সালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করা হজসন ১৯৮২ সালে ব্রিস্টল সিটিকে কোচিং করিয়েছিলেন। সেই একই ক্লাবে তিনি কোচ হিসেবে ফিরলেন ৪৩ বছর ৩৪৪ দিন পর। ফুটবলের উপাত্ত নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান অপটার মতে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে কোনো কোচের তাঁর পুরোনো ক্লাবে ফেরার ক্ষেত্রে এটিই দীর্ঘতম বিরতির রেকর্ড।
অর্ধশতাব্দীর ফুটবল ক্যারিয়ার
৫০ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে রয় হজসন ইন্টার মিলান, লিভারপুল, ইংল্যান্ড জাতীয় দলসহ মোট ২১টি ভিন্ন দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি প্রিমিয়ার লিগের দল ক্রিস্টাল প্যালেসে কোচ ছিলেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যালেস ছাড়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন যে সেখানেই তাঁর কোচিং জীবনের ইতি ঘটবে।
গত বছর স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হজসন বলেছিলেন, ‘আমি ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার মতো হতে চাই না যে বারবার অবসরের ঘোষণা দেব।’ সেই মন্তব্যেরই প্রতিফলন দেখা গেল ব্রিস্টল সিটিতে তাঁর অপ্রত্যাশিত ফেরায়।
ব্রিস্টল সিটির সাথে প্রথম অভিজ্ঞতা
সুইডিশ ক্লাব হামস্টাড দিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরুর পর ১৯৮০ সালে হজসন বব হিউটনের সহকারী হিসেবে ব্রিস্টল সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ম্যানেজারের দায়িত্ব নেন। তবে সেই সময়টাকে তিনি বিপর্যয়কর বলে বর্ণনা করেছেন।
২০১২ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হজসন বলেছিলেন, ‘ব্রিস্টল সিটির অভিজ্ঞতা বিপর্যয়ের চেয়ে কম কিছু ছিল না। আমরা সেখানে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাংকগুলো ক্লাবের নিচ থেকে কার্পেট টেনে ধরা শুরু করেছিল। আমার কাজ ছিল খুবই সাধারণ—খেলোয়াড়েরা ক্লাব ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সৃষ্ট পরিস্থিতির সামাল দেওয়া এবং বাকি থাকা ম্যাচগুলো শেষ করা।’
সেই সময় ব্রিস্টল সিটির হয়ে ২১ ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র তিনটি জয় পেয়েছিলেন। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে হজসন বিদায় নেওয়ার পর থেকে ব্রিস্টল সিটি এ পর্যন্ত মোট ২৪ বার কোচ পরিবর্তন করেছে।
ফুটবল ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড
ইএসপিএনের তথ্যমতে, ফুটবলে একই ক্লাবের দুই মেয়াদের মধ্যবর্তী সময়ের দিক থেকে রয় হজসনই শীর্ষে রয়েছেন। তাঁর নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি আছেন ব্রাজিলের ভ্যান্ডারলাই লুক্সেমবার্গো, যিনি ২০১৯ সালে ভাস্কো দা গামায় ফিরেছিলেন ৩৭ বছর বিরতির পর। তবে প্রথম মেয়াদে পূর্ণাঙ্গ প্রধান কোচ না থাকায় লুক্সেমবার্গোর কীর্তিটি কিছুটা কম মূল্যায়ন করা হয়।
আয়ারল্যান্ডের রনি ম্যাকফলও হজসনের কাছাকাছি রয়েছেন, যিনি ২০১৮ সালে গ্লেনটোরানে ফিরেছিলেন ৩৪ বছর বিরতির পর। এছাড়া ইংলিশ ম্যানেজার নেইল ওয়ারনক ২০২৩ সালে হাডার্সফিল্ড টাউনে ফিরেছিলেন ২৭ বছর বিরতির পর।
চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুমের শেষ সাত ম্যাচের জন্য ব্রিস্টল সিটিতে ফিরে হজসন শুধু একটি রেকর্ডই গড়েননি, বরং প্রমাণ করেছেন যে বয়স কোনো বাধা নয় যখন ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকে।



