চোটের শঙ্কা কাটিয়ে মাঠে ফিরেই নায়ক হোয়ান গার্সিয়া
সংশয় কাটিয়ে মাঠে ফিরলেন, আর ফিরেই নিজের জাত চেনালেন হোয়ান গার্সিয়া। গত ম্যাচে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর তাকে নিয়ে যে শঙ্কার মেঘ জমেছিল, রায়ো ভাইয়েকানোর বিপক্ষে পুরো সময় অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে তা তুড়িতে উড়িয়ে দিলেন বার্সেলোনার এই গোলরক্ষক। রোববার (২৩ মার্চ) কাম্প নউয়ে লা লিগার লড়াইয়ে ভাইয়েকানোকে ১-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে কাতালানরা।
গার্সিয়ার বীরত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন
স্বাগতিকদের পক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ডিফেন্ডার রোনাল্দ আরাউহো। তবে ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত সব 'সেভ' করে ম্যাচের নায়ক বনে যান গার্সিয়াই। গত বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে বার্সার গোলবন্যার ম্যাচে ৮২ মিনিটে চোটের আশঙ্কায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ২৪ বছর বয়সী এই গোলপ্রহরীকে। দলের মূল অতন্দ্র প্রহরীকে পরবর্তী ম্যাচে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে ভক্তদের মনে দুশ্চিন্তা থাকলেও সময়ের ব্যবধানে নিজেকে ফিট প্রমাণ করে আবারও গোলপোস্টের নিচে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ালেন তিনি।
জাতীয় দলে ডাক এবং গার্সিয়ার প্রতিক্রিয়া
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে গার্সিয়ার পারফরম্যান্স এতটাই উজ্জ্বল যে, এর পুরস্কারস্বরূপ প্রথমবারের মতো স্পেন জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে চলতি মাসের শেষ দিকে সার্বিয়া ও মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে দেখা যেতে পারে এই নবাগতকে। জাতীয় দলে ডাক পাওয়া প্রসঙ্গে উচ্ছ্বসিত গার্সিয়া বলেন: "জাতীয় দলে ডাক পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত। সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দিতে মুখিয়ে আছি। চোট নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, স্রেফ খেলার চাপের কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল।"
ম্যাচের চ্যালেঞ্জ এবং বার্সেলোনার অবস্থান
ভাইয়েকানোর বিপক্ষে ম্যাচটি বার্সার জন্য সহজ ছিল না। লিগের প্রথম দেখায় ড্র করতে হলেও এবার ঘাম ঝরানো জয় পেয়েছে টেবিল টপাররা। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে গার্সিয়া বলেন, "তিন পয়েন্ট পাওয়া খুব জরুরি ছিল। আজকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি লড়তে হয়েছে। প্রতিপক্ষ দল হিসেবে বেশ গোছানো এবং আমাদের দুর্বল জায়গাগুলো তারা জানত। এটা আমাদের সেরা ম্যাচ না হলেও জয়টাই দিনশেষে বড় কথা।"
লা লিগার চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৯ ম্যাচে ২৪ জয় ও এক ড্রয়ে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানটি সংহত করে রাখল বার্সেলোনা। এই সাফল্যে গার্সিয়ার অবদান অপরিসীম, যা দলের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলছে।



