সুনীল গাভাস্কারের তীব্র সমালোচনা: পাকিস্তানি স্পিনার কেনায় ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে অভিযোগ
গাভাস্কারের সমালোচনা: পাকিস্তানি স্পিনার কেনায় ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি

সুনীল গাভাস্কারের তীব্র অভিযোগ: পাকিস্তানি স্পিনার কেনায় ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে সমালোচনা

ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার একটি কলামে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স লিডসের পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদ কেনা পরোক্ষভাবে ভারতীয় সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুকে উৎসাহিত করছে। গাভাস্কারের এই মন্তব্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিড ডে-তে প্রকাশিত হয়েছে, যা ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

হানড্রেড নিলামে আবরার আহমেদের কেনা ও প্রতিক্রিয়া

১২ মার্চ অনুষ্ঠিত দ্য হানড্রেড টুর্নামেন্টের নিলামে সানরাইজার্স লিডস পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে টানে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চেন্নাইভিত্তিক সান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান, যার নেতৃত্বে কালানিথি মারান রয়েছেন। তাঁর মেয়ে কাব্য মারান সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, সানরাইজার্স লিডস ও সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের সহমালিক হিসেবে নিলামে উপস্থিত ছিলেন।

এই কেনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে লিডস ফ্র্যাঞ্চাইজি। এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এক্স হ্যান্ডল সাময়িকভাবে সাসপেন্ডও হয়েছিল। গুঞ্জন ছিল যে, হানড্রেডে এবার প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের ওপর নীরব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গাভাস্কারের কলামে কড়া সমালোচনা

৭৬ বছর বয়সী সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক গাভাস্কার তাঁর কলামে লিখেছেন, একজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে যে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তা থেকে তিনি তাঁর সরকারকে আয়কর দেন। সেই অর্থ দিয়ে অস্ত্র কেনা হয়, যা পরোক্ষভাবে ভারতীয় সেনা ও বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থ প্রদানকারী সংস্থা ভারতে হোক বা বিদেশে তাদের কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠান-মালিক যদি ভারতীয় হন, তবে তিনি ভারতীয়দের ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী হয়ে পড়েন

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গাভাস্কার আশা প্রকাশ করে বলেন, ভুল শুধরে নেওয়ার এখনো সময় আছে। আশা করি, শেষ পর্যন্ত সুবিবেচনা প্রাধান্য পাবে। ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী এই ক্রিকেটারের মন্তব্য দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ও পাকিস্তানি খেলোয়াড় কেনা

হানড্রেডে আরও তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি—এমআই লন্ডন, ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস ও সাউদার্ন ব্রেভ—আংশিকভাবে আইপিএল দলগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। নিলামে আরেকজন পাকিস্তানি খেলোয়াড় উসমান তারিককে দলে টানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগে পরিচালিত বার্মিংহাম ফিনিক্স।

গত মাসে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানায়, দ্য হানড্রেড টুর্নামেন্টে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই শুধু পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড় নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০০৯ সাল থেকে পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় আইপিএলে খেলেননি, কারণ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে। গত বছর মে মাসে প্রাণঘাতী সংঘাতের পর ভারত ও পাকিস্তান এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেনি, তারা এখন কেবল বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়।