ঈদে ক্রিকেটারদের জন্য বিসিবির বিশেষ উপহার, স্ত্রী-সন্তানরাও পাবেন
আসন্ন ঈদুল ফিতরের উৎসবকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ ঈদ উপহারের ব্যবস্থা করেছে। গত রোজার ঈদে চালু হওয়া এই রীতিকে এ বছর আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যেখানে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী ও সন্তানরাও উপহার পাবেন। বিসিবির এই উদ্যোগ ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ককে আরও উষ্ণ ও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাদের জন্য উপহার?
বিসিবির এই ঈদ উপহার পাবেন মূলত দুই গ্রুপের সদস্যরা:
- ক্রিকেটার ও তাদের স্ত্রী: গত এক বছরে যারা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে কোনো না কোনো ফরম্যাটে খেলেছেন, এমন ৩০ জন ক্রিকেটার এবং তাদের সহধর্মিণীরা।
- কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্ট: গত এক বছরের কোনো না কোনো সময়ে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা কোচিং স্টাফ, টিম ম্যানেজমেন্ট সদস্য এবং টিম বয় মিলিয়ে আরও ২০ জন।
এভাবে মোট ৫০ জন এই বিশেষ ঈদ উপহারের আওতায় আসছেন, যা বিসিবির ক্রিকেট পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।
কী কী উপহার?
ঈদ উপহার হিসেবে এবার ক্রিকেটাররা পাচ্ছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড জুনায়েদ জামশেদের (জে ডট) দারুণ সব পাজামা-পাঞ্জাবির সেট। স্ত্রীদের জন্যও থাকবে একই ব্র্যান্ডের সালোয়ার-কামিজ, যা গতবারের মতোই স্টাইলিশ ও মানসম্মত হবে।
এছাড়া ক্রিকেটারদের সন্তানদের জন্য বিসিবি পাঠাবে চকলেটের বক্স, যা শিশুদের ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করবে। এই সামগ্রিক ব্যবস্থা ক্রিকেটারদের পারিবারিক উৎসবকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বিসিবির সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার নাফীস এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, 'জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সব সময় বিসিবির বোঝাপড়া ভালো থাকে। তবে সৌজন্য হিসেবে এই একটি বাড়তি জিনিস যোগ করায় সেটি এখন আরও অনেক উষ্ণ, ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের যোগাযোগ এখন আরও ভালো।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গতবার শুধু ক্রিকেটারদের স্ত্রীরাই উপহার পেয়েছিলেন, কিন্তু এবার ক্রিকেটাররাও সরাসরি উপহার পাবেন, যা এই উদ্যোগকে আরও ব্যাপক ও অর্থবহ করে তুলেছে।
উপহার বিতরণ প্রক্রিয়া
বিসিবি ইতিমধ্যেই উপহার বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ক্রিকেটার, তাদের স্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট স্টাফদের নামে সরাসরি উপহার পাঠানো হবে, যাতে ঈদের আগেই সেগুলো হাতে পৌঁছায়। এই ব্যবস্থা ক্রিকেটারদের ঈদের শুভেচ্ছা ও সম্মান জানানোর একটি কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
বিসিবির এই উদ্যোগ শুধু উপহার বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ককে একটি নতুন মাত্রা দিচ্ছে। ক্রিকেটাররা যাতে নিজেদেরকে বিসিবির পরিবারের অংশ মনে করেন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ঈদ উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এভাবে, আসন্ন ঈদুল ফিতরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা শুধু মাঠেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও বিশেষ সম্মান ও আনন্দ পাবেন, যা দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



