বিসিবি নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে ক্লাব সংগঠকদের চিঠি
গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একটি অংশ দাবি করেছে যে এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ ছিল। রোববার (৮ মার্চ) তারা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) একটি চিঠি দিয়েছে, যেখানে নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
তামিম ইকবালের সমর্থন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানিয়েছেন যে ঢাকার ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৫০টি ক্লাবই এই দাবির সঙ্গে একমত। তিনি নিজেও সর্বশেষ বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ওল্ড ডিওএইচএসের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন, কিন্তু নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ জানিয়ে পরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তামিমের পাশাপাশি, জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর মনোনয়নে অস্বচ্ছতার অভিযোগে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে আরও ৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন তোলা প্রত্যাহার করেছেন।
তদন্ত ও পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার আবেদন
তদন্তের পাশাপাশি বিসিবির পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তামিম ইকবাল বলেন, ‘এটা সময় বলবে ভাই। ঠিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করার দরকার, আমরা সেটাকে বেছে নিয়ে আবেদন করেছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করা জরুরি, যা তারা অনুসরণ করেছেন।
গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে আবেদনের কারণ
এই সময়ে তদন্তের আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোহামেডানের পরিচালক মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘গণতন্ত্র ফিরে এসেছে ১৭ থেকে ১৮ বছর পর। এখন একটা গণতান্ত্রিক সরকার, আমরা মনে করি কথা বলার সঠিক সময় এটা। এই কারণেই আমরা এই আবেদনটা করেছি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক পরিবেশে তাদের দাবি উত্থাপনের জন্য এটি উপযুক্ত সময়।
এই ঘটনায় ক্রিকেট প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। ক্লাব সংগঠকদের এই পদক্ষেপ বিসিবির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



