ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উন্মাদনা। বাংলাদেশ অংশ না নিলেও বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশিদের আগ্রহের অন্ত নেই। এই বিষয়টি ফিফার নজরেও এসেছে। নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একাধিকবার বাংলাদেশের দর্শকদের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছে ফুটবলের নীতি নির্ধারণী সংস্থাটি।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা ও বর্তমান অনিশ্চয়তা
বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের অলিতে-গলিতে উড়ে পতাকা। কে কত বড় পতাকা লাগাতে পারে তা নিয়ে হয় পাল্লা। এমনকি চায়ের দোকানের ছোট টেলিভিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হয় খেলা। তবে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ বাংলাদেশের দর্শকরা দেখতে পারবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত স্বত্ব কিনতে পারেনি বাংলাদেশের কোনো সম্প্রচারমাধ্যম।
স্বত্বের দাম নিয়ে জটিলতা
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক মিডিয়া সংস্থা ‘স্প্রিংবক’। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রচার স্বত্বের জন্য প্রায় ১৫১ কোটি টাকা দাবি করেছে। এর সঙ্গে কর (এআইটি) ও ভ্যাট যোগ করলে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২০০ কোটি টাকায়। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এত বিশাল অঙ্কের টাকা দিয়ে স্বত্ব কেনা স্থানীয় চ্যানেলগুলোর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশাল এই আর্থিক ব্যবধানের কারণে কোনো সম্প্রচার মাধ্যম সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। তাতে বাংলাদেশে পুরো মৌসুম বিশ্বকাপ দেখা নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিটিভির অবস্থান
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ৯৮ কোটি টাকায় কিনেছিল বিটিভি। যার কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনকে। বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘স্প্রিংবক থেকে আমাদের কাছে ১৫১ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া এর সঙ্গে ট্যাক্স ও ভ্যাট মিলিয়ে সেটা দুইশত কোটি টাকা দাঁড়াবে।’ তারপরই ওই কর্তা জানান, এত অর্থ দিয়ে আসলে বিটিভির মতো প্রতিষ্ঠানের খেলা দেখানো অসম্ভব। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আসলে এত টাকা দিয়ে বিটিভির পক্ষে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কেনা সম্ভব নয়। বিটিভির সারা বছরের বাজেটই আছে তিনশত কোটি টাকা। এর মধ্যে যদি আমরা দুইশত কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রচার স্বত্ব কিনি তাহলে টেলিভিশন চলবে কী করে? সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এত টাকা দিয়ে স্বত্ব কিনে বিটিভি তো কোনোভাবেই লাভ করতে পারবে না। বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
সময়সূচিও বড় বাধা
অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচের সময়সূচি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়—এই তিন দেশে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৫২টি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার আগে। আর বাকি ৫২টি ম্যাচ ভোর ৪টার পর। অর্থাৎ সিংহভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ভোরের দিকে। সম্প্রচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোরের দিকে ম্যাচ হওয়ায় দর্শক সংখ্যা কম থাকবে। এতে বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী একই চিত্র
বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে এই সংকট কেবল বাংলাদেশেই নয়, ভারত ও চীনের মতো বিশাল বাজারেও এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। ভারতের রিলায়েন্স-ডিজনি ফিফার চাহিদার চেয়ে অনেক কম দাম প্রস্তাব করেছে, অন্যদিকে সনি কোনো প্রস্তাব দিতেই রাজি হয়নি। চীনেও এখন পর্যন্ত কোনো অফিশিয়াল ব্রডকাস্টারের নাম ঘোষিত হয়নি।



