গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ, চালক গ্রেফতার
গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রী অপহরণ ধর্ষণ, চালক গ্রেফতার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার পথে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে দিনভর ধর্ষণের পর সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার এক পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে ওই ছাত্রীকে অটোরিকশা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার জানায়, সোমবার সকালে শিশুটি স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সমাসপাড়া এলাকার একটি ট্রান্সফরমারের নিচ থেকে দুই যুবক তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। স্বজনদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুটানী বাজার এলাকার কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে দিনভর পাশবিক নির্যাতন চালায়।

পরে বিকেল নাগাদ শিশুটিকে ‘আঁখ সেন্টারের’ পাশে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। বিকেলে স্থানীয় পথচারীরা শিশুটিকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবারকে খবর দেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসকের বক্তব্য

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ফাহাদ আল আসাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বড় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ

এই নৃশংস ঘটনার বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ জানায়, বর্তমানে তারা তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এই বর্বরোচিত ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।