আইপিএলে খেলার সময় বাড়ায় গাভাস্কারের কঠোর শাস্তির প্রস্তাব
আইপিএলে সময় বাড়ায় গাভাস্কারের কঠোর শাস্তির প্রস্তাব

আইপিএলে এবার খেলা শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি লাগছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ টেস্ট ও ওয়ানডের চেয়ে এখানে সময় কম লাগে। কিন্তু এবারের আইপিএলে সেই ধারণা ভেঙে যাচ্ছে, কোনো ম্যাচই সাড়ে তিন ঘণ্টার কমে শেষ হচ্ছে না। মুম্বাই-বেঙ্গালুরুর একটি ম্যাচ তো ৩ ঘণ্টার জায়গায় ৪ ঘণ্টা ২২ মিনিট পর্যন্ত গড়িয়েছে, যদিও সুপার ওভার বা অতিরিক্ত সময় লাগার মতো বিশেষ কোনো পরিস্থিতি ছিল না।

গাভাস্কারের কঠোর শাস্তির প্রস্তাব

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলা শেষ না হওয়ার ঘটনা লাগাতার চলতে থাকায় এ নিয়ে সরব হয়েছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার। তাঁর মতে, শুধু আর্থিক জরিমানা দিয়ে স্লো ওভার রেটের রোগ সারবে না, খেলোয়াড়েরা ভালো আয় করেন বলে এটি তাঁদের গায়ে লাগে না। দরকার রান কাটার মতো কঠোর শাস্তি কিংবা ম্যাচের ফল পাল্টে যেতে পারে এমন কিছু।

সময় নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ

মিড-ডেতে লেখা নিজের কলামে গাভাস্কার লিখেছেন, আইপিএল বিশ্বের সেরা টুর্নামেন্ট হলেও সময়ের ব্যাপারে একধরনের ‘শিথিলতা’ ও ‘অপেশাদারত্ব’ ঢুকে পড়েছে। মাঠে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে রিজার্ভ খেলোয়াড়দের মাঠে ঢুকে পানির বোতল দিয়ে আসা বন্ধ করতে হবে। স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউটের সময় কোচিং স্টাফ আর নির্দিষ্ট পানীয় বাহক ছাড়া আর কারও মাঠে ঢোকা উচিত নয়।’ কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার রিচি বেনোর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, মাঠ শুধু খেলোয়াড় ও আম্পায়ারদের জন্য, সেখানে অন্য কারও বিচরণ খেলার গতি কমিয়ে দেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উইকেট-টাইমার কমানোর প্রস্তাব

ম্যাচ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে উইকেট-টাইমার কমানোরও প্রস্তাব দিয়েছেন গাভাস্কার। বর্তমানে এক উইকেট পড়ার পর নতুন ব্যাটসম্যান নামার জন্য ২ মিনিট সময় দেওয়া হয়। গাভাস্কারের প্রস্তাব, এখনকার ক্রিকেটে খেলোয়াড়েরা যেহেতু বাউন্ডারি সীমার পাশে ডাগআউটেই থাকেন, ব্যাটসম্যানের নামার জন্য সময় ১ মিনিট করা উচিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রান পেনাল্টির সুপারিশ

বর্তমানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলা শেষ করতে না পারলে জরিমানার নিয়ম আছে। তবে খেলোয়াড়েরা ভালো অঙ্কের আয় করেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে দলই জরিমানার অর্থ দিয়ে দেয় বলে তা কার্যকর হয় না। গাভাস্কারের মতে, ‘যতক্ষণ না পেনাল্টি এমন হয়, যা ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, ততক্ষণ এটি কার্যকর হবে না।’ এ ক্ষেত্রে রান পেনাল্টি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী এই ক্রিকেটার। ম্যাচের শেষ দিকে বাউন্ডারিতে ফিল্ডার কমিয়ে দেওয়ার শাস্তির প্রভাব কত বেশি, তা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘একটি দল নির্ধারিত সময়ে ওভার শেষ না করার শাস্তি হিসেবে যখন শেষ ওভারে ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে একজন ফিল্ডার কমিয়ে ফেলতে হয়, তখন তাদের মধ্যে কী আতঙ্ক তৈরি হয়, খেয়াল করে দেখুন। এর কারণ হলো এটি ম্যাচের ফলাফল বদলে দিতে পারে। পয়েন্ট বা রানের পেনাল্টি নিশ্চিত করবে যেন ওভারগুলোর মাঝে সময়ের অপচয় না হয়।’