অভিষেক শর্মার সেঞ্চুরিতে আইপিএলে নতুন রেকর্ড, বাবার পরামর্শে জয়
গতকাল রাতে আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি করে অভিষেক শর্মা মেজাজে ছিলেন উচ্ছ্বাসে। ভারতের জার্সিতে টি-টুয়েন্টিতে যেখানে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৯০.৪৬, ঘরোয়া টি-টুয়েন্টিতে সেটা ১৭৫.১৩, আর আইপিএলে মাত্র ১৬৯.২২। কিন্তু এই ম্যাচে তিনি ১৯৮.৫২ স্ট্রাইক রেটে ১৩৫ রান করলেন, যা তাঁর গায়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সি থাকা সত্ত্বেও অসাধারণ ছিল।
মারতে মারতে বলের ছাল তুলে নেওয়ার দর্শন
অভিষেক শর্মা যে ঘরানার ব্যাটসম্যান, মারতে মারতে বলের ছাল-চামড়া তুলে নেওয়াটাই তাঁদের দর্শন। বরাবরের মতো কালও তিনি সেই দর্শনে মজে ৬৮ বলে অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস খেলেন। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, পুরো ২০ ওভারই তিনি ক্রিজে ছিলেন, যা তাঁর ইনিংসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিরাট কোহলির পাশে বসলেন অভিষেক
সেঞ্চুরির পর অভিষেক শর্মা এখন টি-টুয়েন্টিতে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় বিরাট কোহলির পাশে বসলেন। কোহলি ৪০৩ ইনিংসে ৯ সেঞ্চুরি নিয়ে শীর্ষে ছিলেন, আর অভিষেক মাত্র ১৮৪ ইনিংসেই ৯ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। কুইন্টন ডি কক, রাইলি রুশো ও সাহিবজাদা ফারহানেরও ৯টি করে সেঞ্চুরি আছে, তবে শুধু ফারহান ইনিংসের সংখ্যায় অভিষেকের কাছাকাছি। এ সংস্করণে সর্বোচ্চ ২২ সেঞ্চুরি ক্রিস গেইলের।
বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের দাপট ও নতুন রেকর্ড
৪৭ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অভিষেক শর্মা এবার আইপিএলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের দাপট আরও বাড়ালেন। এ পর্যন্ত যে চার সেঞ্চুরিয়ানের তিনজনই বাঁহাতি—কুইন্টন ডি কক, তিলক বর্মা ও অভিষেক। ডানহাতি শুধু সঞ্জু স্যামসন। অভিষেক কাল রাতের ইনিংসটি দিয়ে গড়েছেন দারুণ এক রেকর্ডও: আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ১৩০+ রানের ইনিংস এখন তাঁর। গত মৌসুমে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ১৪১ রান।
ছক্কার ঝড় ও পারিবারিক মুহূর্ত
অভিষেক তাঁর ১৩৫ রানের ইনিংসে ৯ চারের সঙ্গে ১০টি ছক্কাও মারেন। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আইপিএলে এক ইনিংসে ১০ ছক্কা মারলেন তিনি। গেইলের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একাধিক ইনিংসে ন্যূনতম ১০ ছক্কা মারলেন অভিষেক। পাশাপাশি টি-টুয়েন্টিতে সাড়ে তিন শ ছক্কাও (৩৫১) পেরিয়ে গেলেন সানরাইজার্স ওপেনার।
হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে দিল্লির বিপক্ষে সানরাইজার্সের ৪৭ রানে জয়ের এ ম্যাচে গ্যালারিতে অভিষেকের মা-বাবা থাকলেও তাঁর বোনকে দেখা যায়নি। সেঞ্চুরিটি বোনকে উৎসর্গ করে অভিষেক ম্যাচ শেষে বলেন, ‘বাবা ও মা এখানে (গ্যালারি) আছেন...মুহূর্তটি তাই বিশেষ কিছু। তবে বোন আসতে পারেনি। কারণ, সংক্রমণে (অসুস্থ) ভুগছে। তাই এটা (সেঞ্চুরি) তোমার জন্য।’
বাবার ইশারায় পরামর্শ
বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের এক অদ্ভুতুড়ে অভ্যাসের কথাও জানিয়েছেন অভিষেক। সেই অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায় থেকে এই রীতি আজও মেনে চলেন তিনি। ২৫ বছর বয়সী অভিষেক জানান, তাঁর বাবা গ্যালারিতে বসে নিয়মিত তাঁকে পরামর্শ দিয়ে যান। বিশেষ করে অভিষেক যখন নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকেন, তখন মাঠের বাইরে থেকে ইশারায় শট নির্বাচন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ে বাবাকে দিকনির্দেশনা দিতে দেখেন তিনি।
দিল্লির বিপক্ষে ম্যাচেও বাবার সেই চিরচেনা পরামর্শ কাজ করেছে বলে জানান অভিষেক। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মজা করে তিনি বলেন, ‘সেই অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায় থেকেই আমার বাবা সব সময় সাইট স্ক্রিনের পাশে বসে খেলা দেখেন। হায়দরাবাদেও তিনি সেখানেই ছিলেন। আমি যখনই নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকি, তিনি ইশারায় আমাকে বলে দেন কোন শটটা কীভাবে খেলতে হবে। এখনো এই ধারা চলছে। আমি চাই পরেরবার থেকে একটি ক্যামেরা যেন তাঁর দিকেও থাকে, যাতে সবাই তাঁর প্রতিক্রিয়াগুলো দেখতে পারে।’



