গ্রুপ ই-এর ম্যাচ সূচি
১৪ জুন ফিলাডেলফিয়ায় আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর এবং হিউস্টনে জার্মানি বনাম কুরাসাও খেলবে। ২০ জুন টরন্টোতে জার্মানি বনাম আইভরি কোস্ট এবং কানসাস সিটিতে ইকুয়েডর বনাম কুরাসাও হবে। ২৫ জুন ফিলাডেলফিয়ায় কুরাসাও বনাম আইভরি কোস্ট এবং নিউ ইয়র্কে ইকুয়েডর বনাম জার্মানি অনুষ্ঠিত হবে।
দল প্রিভিউ: জার্মানি
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান দলকে দ্রুত, আক্রমণাত্মক ও সরাসরি ফুটবলে রূপান্তরিত করেছেন। মার্চ ২০২৬-এর দল দেখে নাগেলসমান নিজেই বলেছেন যে বিশ্বকাপের দলটি এর কাছাকাছি হবে।
আক্রমণ
জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান ভার্টজের জুটি প্রতিপক্ষের রক্ষণের জন্য দুঃস্বপ্ন। তারা মাঠের মাঝে ও ফ্ল্যাঙ্কের সংকীর্ণ জায়গায় অসাধারণ সমন্বয় দেখান। লেরয় সানে পাশ থেকে মাঠ চওড়া করেন, আর কাই হ্যাভার্টজ বা নিক ভল্টেমাড বক্সে ফিজিক্যালিটি যোগ করেন। জার্মানির আক্রমণের প্রধান বৈশিষ্ট্য গতি—প্রতিপক্ষ সংগঠিত হওয়ার আগেই তারা আক্রমণ চালায়। তবে মুসিয়ালার ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা রয়েছে; ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপে পা ভাঙার পর তিনি পুরোপুরি সেরে উঠছেন।
মিডফিল্ড
আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ ও লিওন গোরেৎস্কা রক্ষণাত্মক ঢাল তৈরি করেন। পাভলোভিচ বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন, গোরেৎস্কা শারীরিক শক্তিতে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামান। জশুয়া কিমিখ রাইটব্যাক থেকে মাঝমাঠের ভূমিকা পালন করে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন।
রক্ষণ
নিকো শ্লটারব্যাক ও জনাথন টাহ সেন্টারব্যাক জুটি বল পায়ে স্বাচ্ছন্দ্য ও এরিয়াল শক্তিতে ভরপুর। ডেভিড রউম লেফট ব্যাকে আক্রমণে অংশ নিলেও পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। গোলে ম্যানুয়েল নয়্যার চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন করেছেন।
সম্ভাব্য একাদশ
নয়্যার; কিমিখ, টাহ, শ্লটারব্যাক, রউম; গোরেৎস্কা, পাভলোভিচ; সানে, মুসিয়ালা, ভার্টজ; হ্যাভার্টজ।
সেট পিস তথ্য
কর্নার নেবেন কিমিখ, ভার্টজ ও রউম। ডিরেক্ট ফ্রিকিকে থাকবেন কিমিখ, ভার্টজ ও হ্যাভার্টজ। পেনাল্টিতে হ্যাভার্টজ ও ভার্টজ।
চ্যালেঞ্জ
মুসিয়ালার ফিটনেস সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রউম ও মুসিয়ালা-ভার্টজের আক্রমণাত্মক ওভারল্যাপের ফলে পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা দ্রুত প্রতি আক্রমণে পারদর্শী দল কাজে লাগাতে পারে। পাভলোভিচ ও গোরেৎস্কার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
দল প্রিভিউ: কুরাসাও
ক্যারিবিয়ানের ছোট্ট দ্বীপ কুরাসাও প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেছে, মাত্র ১ লাখ ৮৬ হাজার জনসংখ্যা নিয়ে। ৭৮ বছর বয়সী কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের নেতৃত্বে কনকাকাফ বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে ৭ জয় ও ৩ ড্র করে তারা জ্যামাইকা ও ত্রিনিদাদকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের টিকিট পায়। ব্যক্তিগত কারণে অ্যাডভোকাট ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সরে দাঁড়ালেও ফ্রেড রুটেন দলের মূল চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখেছেন।
আক্রমণ
বিশ্বমানের তারকা না থাকলেও রানগেলো জাংগা সর্বোচ্চ গোলদাতা। ইউর্গেন লোকাডিয়া ও গারভানে কাসতানিরকে একাদশে বেশি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কেনজি গোরে পাশ থেকে দ্রুত দৌড়ে চাপ তৈরি করেন। দল প্রতি আক্রমণে বেশি বিপজ্জনক এবং সেট পিস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে।
মিডফিল্ড
অধিনায়ক লিয়ান্দ্রো বাকুনা মাঝমাঠের প্রধান চালিকাশক্তি, যার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জুনিনিও বাকুনা রক্ষণাত্মক ভূমিকায় বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি ডুয়েল জিতেছেন। জেরেমি আন্তোনিসে সেট পিস ও সরাসরি আক্রমণে সাহায্য করেন।
রক্ষণ
দলীয় একতাই রক্ষণের মূল শক্তি। ওবিসপো ও গারি কেন্দ্রে রক্ষণ সামলাবেন। বেশিরভাগ খেলোয়াড় নেদারল্যান্ডসে খেলায় ইউরোপীয় রক্ষণাত্মক কাঠামো মেনে চলেন।
সম্ভাব্য একাদশ
রুম; সাম্বো, গারি, ওবিসপো, ফ্লোরানুস; কোমেনেনসিয়া, লে. বাকুনা, জু. বাকুনা; আন্তোনিসে, কাসতানির, গোরে।
সেট পিস তথ্য
কর্নার নেবেন লে. বাকুনা, আন্তোনিসে ও জু. বাকুনা। ডিরেক্ট ফ্রি কিকে থাকবেন লে. বাকুনা। পেনাল্টিতে লে. বাকুনা ও জাংগা।
চ্যালেঞ্জ
মানের পার্থক্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জার্মানি, ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্টের বিপক্ষে টানা ৯০ মিনিট উচ্চমানের আক্রমণ সামলানো কঠিন হবে। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
দল প্রিভিউ: আইভরি কোস্ট
১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে আইভরি কোস্ট, আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। ২০২৪ আফকন নিজেদের মাটিতে জেতার পর কোচ ইমার্স ফাই দলকে চাপে পড়লে আরও ভালো খেলার মানসিকতা দিয়েছেন।
আক্রমণ
আমাদ দিয়ালো ত্রায়োরে গতি ও একক দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেন। ইভান গুয়েসান্ড ফিজিক্যালিটি যোগ করেন। দল প্রতি আক্রমণে বেশি ভরসা রাখে এবং সেট পিস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে।
মিডফিল্ড
ফ্রাংক কেসিয়ে বার্সেলোনার সাবেক মিডফিল্ডার হিসেবে আক্রমণ শুরু, রক্ষণে সাহায্য ও দলের ছন্দ ধরে রাখেন। সাঙ্গারে রক্ষণাত্মক দিক সামলান।
রক্ষণ
আফকন বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে একটিও গোল না খাওয়া দলীয় শৃঙ্খলার প্রমাণ। ইভান এনডিকা, ওডিলন কোসৌনু বা ইমানুয়েল আগবাডু কেন্দ্রে শক্তিশালী জুটি গড়েন। কোনান লেফট ব্যাকে রক্ষণ করেন।
সম্ভাব্য একাদশ
ফোফানা; দোয়ে, কোসৌনু, আগবাডু, কোনান; সাঙ্গারে, কেসিয়ে, ফোফানা; দিয়ালো, গুয়েসান্ড, ডিওমান্দে।
সেট পিস তথ্য
কর্নার নেবেন আমাদ দিয়ালো ও কেসিয়ে। ডিরেক্ট ফ্রি কিকে থাকবেন কেসি। পেনাল্টিতে গুয়েসান্ড ও কেসিয়ে।
চ্যালেঞ্জ
জার্মানির হাফ-স্পেস আক্রমণ রুখতে না পারলে বড় ব্যবধানে হারতে পারে। প্রতিপক্ষ রক্ষণে বসে খেললে আইভরি কোস্ট ধীর হয়ে যায়। দ্বিতীয় স্থানের জন্য গোল ব্যবধান নির্ধারক হতে পারে।
দল প্রিভিউ: ইকুয়েডর
দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে দ্বিতীয় স্থান থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর। ১৮ ম্যাচে মাত্র ৫ গোল খেয়েছে, ৮ ম্যাচে প্রতিপক্ষ একটিও গোল করতে পারেনি। কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাচ্চেচে দলকে রক্ষণাত্মক শক্তিতে ভরপুর করে তুলেছেন।
আক্রমণ
এনার ভালেন্সিয়া দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও অভিজ্ঞ নেতা। গনজালো প্লাতা পাশ থেকে অপ্রত্যাশিত আক্রমণ তৈরি করেন। মোইসেস কাইসেদো মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে শক্তি যোগান। দলের প্রধান শক্তি প্রতি আক্রমণ।
মিডফিল্ড
মোইসেস কাইসেদো মাঝমাঠের হৃদয়; তিনি বল কেড়ে নেন, সামনে এগিয়ে যান ও গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ফ্রাংকো ও ভিটে পাশে থেকে রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করেন।
রক্ষণ
পিয়েরো হিনকাপিয়ে ও উইলিয়ান পাচো কেন্দ্রে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা জুটি। পারভিস এস্তুপিনিয়ান লেফট ব্যাকে আক্রমণেও সক্রিয়। কাইসেদো রক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে আক্রমণ আগেই আটকে দেন।
সম্ভাব্য একাদশ
গালিন্দেজ; অর্দোনেজ, পাচো, হিনকাপিয়ে, এস্তুপিনান; ফ্রাংকো, কাইসেদো, ভিটে, আঙ্গুলো; প্লাটা, ভালেন্সিয়া।
সেট পিস তথ্য
কর্নার নেবেন আলসিভার, কাইসেদো, ভিটে, আঙ্গুলো ও পায়েজ। ডিরেক্ট ফ্রি কিকে থাকবেন এস্তুপিনান ও কাইসেদো। পেনাল্টিতে ভালেন্সিয়া ও কাইসেদো।
চ্যালেঞ্জ
গোল করার ক্ষমতা সবচেয়ে বড় দুর্বলতা; বাছাইপর্বে ১৮ ম্যাচে মাত্র ১৪ গোল করেছে। রক্ষণে বসে থাকা দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ গড়া কঠিন হয়।
গ্রুপ ই প্রেডিকশন
জার্মানি গ্রুপ জয়ের জন্য স্পষ্ট ফেভারিট, সম্ভাবনা ৭০-৮০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানের লড়াই হবে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্টের মধ্যে; ১৪ জুনের ম্যাচটি ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কুরাসাওর জন্য পয়েন্ট অর্জন কঠিন হবে; তারা সম্ভবত চতুর্থ হয়ে বিদায় নেবে।



