আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর স্টেডিয়াম নীতিমালা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে এনেছে ফিফা, বিশেষ করে দর্শকদের পানির বোতল বহন সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শুরুতে ফিফা ঘোষণা করেছিল যে নিরাপত্তার কারণে কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়, কারণ অনেকেই মনে করেন এটি দর্শকদের বাধ্য করে স্টেডিয়ামের ভেতরে উচ্চমূল্যে পানি কিনতে, যা একটি বাণিজ্যিক স্বার্থনির্ভর পদক্ষেপ।
সমালোচনার কারণ
বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। সেখানে ম্যাচ চলাকালীন তাপমাত্রা অনেক সময় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি থাকতে পারে, ফলে দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত পানি থাকা জরুরি বলে মনে করা হয়। অনেকেই অভিযোগ তোলেন যে ফিফার এই নিষেধাজ্ঞা মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থে নেওয়া, যাতে দর্শকরা স্টেডিয়ামের ভেতরে উচ্চমূল্যের পানি কিনতে বাধ্য হন।
ফিফার নতুন সিদ্ধান্ত
সমালোচনার চাপের মুখে ফিফা আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে জানিয়েছে, দর্শকরা এখন নির্দিষ্ট ধরনের ৫৯০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন, সিল করা ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পানির বোতল সঙ্গে আনতে পারবেন। তবে শক্ত বা পুনঃব্যবহারযোগ্য বোতল এখনো নিষিদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এটিকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইভাবে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চও এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এটিকে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ও জনস্বার্থবিরোধী বলে সমালোচনা করেছেন।
বাণিজ্যিক স্বার্থ
স্টেডিয়ামগুলোতে পানীয় সরবরাহে দীর্ঘদিনের স্পন্সর কোকা-কোলা একচেটিয়া ভূমিকা পালন করবে বলেও জানা গেছে। সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা, দর্শক সুবিধা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ—এই তিন ইস্যু ঘিরে ফিফার এই নীতিগত পরিবর্তন এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি স্পোর্ট



