আইসিসি মহিলা টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দিকে সবার নজর এখন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দিকে। বিশ্বের সেরা টি২০আই দলগুলো নিজেদের ছাপ রাখতে প্রস্তুত হচ্ছে।
বৃহত্তম আসর
প্রতিযোগিতার দশম সংস্করণটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হতে চলেছে, যেখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক দল (১২) অংশ নিচ্ছে এবং রেকর্ড পরিমাণ পুরস্কারের অর্থ ঘোষণা করা হয়েছে। টুর্নামেন্টটি সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, পাশাপাশি বড় মঞ্চে ভাঙা যেতে পারে বেশ কিছু রেকর্ড।
পেরির ঐতিহাসিক পঞ্চাশ
অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার এলিসি পেরি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলেছেন (৪৭)। তিনি তিন ম্যাচ খেললেই পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট মিলিয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টি২০ বিশ্বকাপে ৫০ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়বেন। পেরি ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সদস্য হিসেবে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়। ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আগের নয়টি সংস্করণেই খেলেছেন, এবং এবারও মাঠে নামবেন।
দশম অংশগ্রহণ
পেরি ছাড়াও হারমানপ্রীত কৌর (ভারত), চামারি আথাপাত্তু (শ্রীলঙ্কা), মারিজানে কাপ (দক্ষিণ আফ্রিকা), স্টেফানি টেলর (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), সোফি ডিভাইন ও সুজি বেটস (নিউজিল্যান্ড) টানা দশম বার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন।
কৌরের ২০০ ম্যাচ
ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর চার ম্যাচ খেললেই পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে টি২০আই ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়বেন। কৌর এখন পর্যন্ত ১৯৬ ম্যাচ খেলেছেন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মহিলা টি২০ বিশ্বকাপেই তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল।
শুটের পঞ্চাশ উইকেট
অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার মেগান শুট মাত্র দুই উইকেট দূরে রয়েছেন মহিলা টি২০ বিশ্বকাপে ৫০ উইকেটের মাইলফলক থেকে। পাঁচ সংস্করণে ২৯ ম্যাচে ৪৮ উইকেট নিয়েছেন তিনি, যেখানে গড় ১১.৭২ এবং ইকোনমি ৫.৬৫। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার শাবনিম ইসমাইলও ৪৩ উইকেট নিয়ে এই তালিকায় রয়েছেন।
বেটসের ৫০০০ রান
নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি সুজি বেটস ঘোষণা করেছেন যে এই টুর্নামেন্ট তার শেষ হবে। তিনি ২৮০ রান দূরে রয়েছেন প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টি২০আইতে ৫০০০ রান করার মাইলফলক থেকে (পুরুষ ও মহিলা)। ২০০৭ সালে অভিষেক হওয়া বেটস ১৮৩ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি ও ২৮ ফিফটিসহ রান সংগ্রহ করেছেন।
সেঞ্চুরির প্রতিযোগিতা
লরা উলভার্ড, হেইলি ম্যাথিউস ও চামারি আথাপাত্তু—এই তিন অধিনায়কের টি২০আইতে তিনটি করে সেঞ্চুরি রয়েছে। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইশা ওজার পাঁচ সেঞ্চুরির রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেন।
একলস্টোনের ১৫০ উইকেট
ইংল্যান্ডের স্পিনার সোফি একলস্টোন ১০৪ ম্যাচে ১৪৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম বোলার হিসেবে মহিলা টি২০আইতে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন।
ধারাবাহিক শিরোপা
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের জন্য রয়েছে বিরল সুযোগ। টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতলে তারা অস্ট্রেলিয়ার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে। অস্ট্রেলিয়া তিনবার টানা দুইবার করে মোট ছয়টি শিরোপা জিতেছে। বর্তমানে ভারতের দীপ্তি শর্মা মহিলা টি২০আইতে সর্বোচ্চ ১৬৬ উইকেটের অধিকারী।
অস্ট্রেলিয়ার নিজেদের রেকর্ড
ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নিজেদের সংগ্রহ বাড়ানোর জন্য উদগ্রীব। সপ্তম শিরোপা জিতলে তারা পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সমান শিরোপা অর্জন করবে, যা যেকোনো দলের জন্য আইসিসি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ।



