২০২৬ বিশ্বকাপে গোলরক্ষক চোটগ্রস্ত হলে সতীর্থ খেলোয়াড়রা আর কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে টেকনিক্যাল এরিয়ায় যেতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ফিফার রেফারি-প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘গোলকিপার ট্যাকটিক্যাল টাইমআউট’ ফুটবলে আলোচিত একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক সময় কোচরা নতুন কৌশল বা নির্দেশনা দেওয়ার জন্য কিংবা প্রতিপক্ষ দলের ছন্দ নষ্ট করতে এই কৌশল ব্যবহার করেন।
প্রিমিয়ার লিগে বিতর্ক
গত নভেম্বরে প্রিমিয়ার লিগে লিডস ইউনাইটেডের কোচ ড্যানিয়েল ফার্কে অভিযোগ করেছিলেন, ম্যানচেস্টার সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের ভান করে খেলা বন্ধ করেছিলেন এবং নিয়মের সুযোগ নিয়েছিলেন। তখন গোলরক্ষক মাঠে বসে পড়ে ফিজিওকে ডাকেন। এরপর অন্য খেলোয়াড়রা টেকনিক্যাল এরিয়ার দিকে ছুটে যান এবং কোচের কাছ থেকে নির্দেশনা নেন। আলোচনা শেষ হলে গোলরক্ষক আবার খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান।
আইএফএবির আলোচনা
এ সমস্যা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড তথা আইএফএবি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত খেলার নিয়মে সরাসরি কোনো পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়নি। যে সংস্থাটি ফুটবলের আইন বা নিয়মকানুন নির্ধারণ ও পরিবর্তন করে। পরে তারা সমাধান খুঁজতে ২০২৬-২৭ মৌসুমজুড়ে বিভিন্ন লিগকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নারী পেশাদার ফুটবল লিগ ন্যাশনাল উইমেন্স সকার লিগ চলতি বছরের শুরুতে একটি অস্থায়ী নিয়ম চালু করে। সেখানে গোলরক্ষক আহত হলে উভয় দলের খেলোয়াড়দের নিজেদের অবস্থানে থাকতে হবে অথবা মাঠের মাঝখানের বৃত্তে জড়ো হতে হবে।
ফিফার নতুন নীতি
তার ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বকাপে ফিফাও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করবে। ফলে গোলরক্ষক আহত হলে খেলোয়াড়রা আর টাচলাইনে গিয়ে কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন না। কলিনা বলেছেন, নতুন নিয়ম সম্পর্কে সব দেশের দলকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘৪৮টি দলের সব কোচকে নিয়ে আমরা একটি কর্মশালা করেছি এবং সেখানে জানিয়েছি যে রেফারিরা এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোলরক্ষক মাঠে চোট নিয়ে পড়ে থাকলে দুই দলের খেলোয়াড়দের বেঞ্চের দিকে যেতে দেওয়া হবে না। গোলরক্ষকের আহত হওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে নিজেদের কোচের সঙ্গে এক ধরনের টাইমআউট বৈঠক করার অধিকার নেই।’



