সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হারল বাংলাদেশ
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হারল বাংলাদেশ

গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে গতকাল সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের অলিখিত ফাইনালে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতে কিছুটা আক্রমণাত্মক থাকলেও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশেষ করে রাইট উইংয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র নিষ্প্রভ ছিলেন। পুরো দলই নিজেদের ছায়া হয়ে যায়।

ম্যাচের মূল ঘটনা

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে রক্ষণের অসতর্কতায় প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ। ভারতের ডিফেন্ডার নির্মলা দেবীর লম্বা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সুরমা জান্নাতের হেড পেছনে চলে যায় ভারতীয় স্ট্রাইকার পিয়ারি জাজার পায়ে। নিখুঁত কোনাকুনি শটে গোলকিপার মিলিকে পরাস্ত করেন পিয়ারি। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে ৪৫তম ম্যাচে তাঁর ২০তম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও স্ট্রাইকারদের ফিনিশিং দুর্বলতায় সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি। ৬৫ মিনিটে কোচ পিটার বাটলার তিনটি বড় পরিবর্তন আনেন: আনিকার জায়গায় সাগরিকা, মনিকার পরিবর্তে শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহার জুনিয়রের জায়গায় উমেলাহ মারমা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভারতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোল

৭৭ মিনিটে সুরমা জান্নাত ভারতের বদলি ফরোয়ার্ড মালাভিককে ডি-বক্সে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় ভারত। ভুটানের রেফারির দেওয়া পেনাল্টিতে লিয়েন্ডা সহজেই গোল করেন। শেষ ক্ষণে মালভিকা তৃতীয় গোল করলে বাংলাদেশের রক্ষণ ছত্রখান হয়ে যায়।

কৌশলগত পরিবর্তন ও পরিসংখ্যান

মালদ্বীপ ম্যাচের একাদশ থেকে দুইটি বড় পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ বাটলার। প্রথমবারের মতো সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকারকে বাদ দেওয়া হয় এবং উমেলাহ মারমাকে বেঞ্চে বসিয়ে মনিকাকে একাদশে জায়গা দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত এসব পরিবর্তন বড় হার এড়াতে পারেনি। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে এ পর্যন্ত দুই দল ৮ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ভারতের জয় ৫টি, বাংলাদেশের ২টি এবং ড্র ১টি। ভারত করেছে ২২ গোল, বাংলাদেশ ৭ গোল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি বাংলাদেশ

গ্রুপ ‘বি’র রানার্সআপ হয়ে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলবে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নেপালের বিপক্ষে। ৩ জুনের এই ম্যাচে নেপালকে হারাতে পারলেই ফাইনালে ওঠা সম্ভব হবে। নেপালের কোচ আগেই জানিয়েছিলেন, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে বেশি পছন্দ করেন তাঁরা। বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য এটি হবে বড় চ্যালেঞ্জ।