বুন্দেসলিগায় বাংলাদেশি হকি তারকা, পরিবার ছাড়া ঈদ
বুন্দেসলিগায় বাংলাদেশি হকি তারকা, পরিবার ছাড়া ঈদ

জার্মানির বুন্দেসলিগা হকি লিগে এবার খেলছেন বাংলাদেশের একঝাঁক খেলোয়াড়। তাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড মাহবুব হোসেন। তবে ঈদের আগে বিদেশে খেলতে যাওয়ায় এবার পরিবারের সঙ্গে উৎসব ভাগাভাগি করতে পারছেন না তিনি। মা, স্ত্রী ও স্বজনদের ছাড়া ঈদ কাটাতে হওয়ায় মনটা কিছুটা বিষণ্ন এই হকি তারকার।

শুধু মাহবুবই নন, দেশের ফুটবল, হকি ও ক্রিকেট অঙ্গনের অনেক খেলোয়াড় এবার জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি কিংবা বিদেশি লিগের কারণে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেননি। প্রিয়জনদের ছেড়ে দূরে থাকলেও তাদের কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নেওয়া। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্নই যেন এই ত্যাগকে অর্থবহ করে তুলেছে ক্রীড়াবিদদের কাছে।

মাহবুবের বাবা আগেই মারা গেছেন। বর্তমানে তার মা ও স্ত্রী রয়েছেন। এবার স্ত্রী নওগাঁয় বাবার বাড়িতে এবং মা মানিকগঞ্জে বোনের বাসায় ঈদ উদযাপন করেছেন। আর তিনি ঈদের সময় কাটিয়েছেন জার্মানিতে, খেলাধুলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিষণ্ন কণ্ঠে বাংলা ট্রিবিউনকে মাহবুব বলেন, “এবার প্রথম জার্মানিতে ক্লাব লিগে খেলতে এসেছি। নিজের ক্যারিয়ারের জন্যই এখানে খেলছি। জানতাম মাঝপথে ঈদ রয়েছে। তারপরও কিছু করার ছিল না। এখন মা-স্ত্রীর কথা খুব মনে পড়ছে, বিশেষ করে ঈদের সময়টা। এখানে তো ঈদের কোনও আমেজ নেই। দেশে থাকলে সবার সঙ্গে ঈদটা ভালোভাবে কাটাতে পারতাম।”

ক্যারিয়ারের স্বার্থে পরিবারের থেকে দূরে থাকলেও প্রিয়জনদের অভাব তাকে প্রতিনিয়ত অনুভূত করছে বলে জানান এই জাতীয় দলের খেলোয়াড়।

জাতীয় ফুটবল দলের ৫ জুন সান মারিনো দলের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুটবলাররা। পাশাপাশি অলিম্পিক দলও মালদ্বীপে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টকে লক্ষ্য করে মারুফুল হকের অধীনে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদের সময়েও তাই খেলোয়াড়দের জন্য নেই বাড়ি ফেরার সুযোগ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে জাতীয় দলের দায়িত্বে থমাস ডুলির অধীনে অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জামাল ভূঁইয়াসহ অন্যান্য ফুটবলাররা। উৎসবের এই সময়েও মাঠের প্রস্তুতিই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

যশোর থেকে প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া ফরোয়ার্ড মিনহাজুল করিম স্বাধীন অবশ্য উচ্ছ্বসিত। তবে ঈদে নিজ শহর যশোরে না ফিরতে পারার আক্ষেপও রয়েছে তার মধ্যে। ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, “আমার মা ও পরিবারের সবাই যশোরে আছেন। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীও আছেন সেখানে। তাদের সঙ্গে ঈদ করতে পারলে খুব ভালো লাগত। এবার তাদের ছাড়া ঈদ করেছি, এটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।”

তিনি আরও বলেন, “একই সঙ্গে জাতীয় দলে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছি। সবার সঙ্গে প্রথমবার ঈদ করেছি, এটাও নতুন অভিজ্ঞতা। জাতীয় দলের জন্য কিছু করতে পারলে তখন আরও ভালো লাগবে।”

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ভারতের গোয়াতে আছেন আফঈদা খন্দকাররা। তাদের কাছে ঈদে খেলা কিংবা ক্যাম্পে থাকা নতুন কিছু নয়। আফঈদা জানালেন, “আসলে আমাদের কাছে এটা সয়ে গেছে। আগেই ঈদে দেশের বাইরে খেলেছি। এবারও তাই হয়েছে। এখন আর তেমন খারাপ লাগে না। দেশের জন্য খেলতে এসেছি। এটাই বড় সবার কাছে। আবার এটাও ঠিক পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করতে পারলে ভালো লাগতো।”

জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দল এশিয়া কাপের মিশন সামনে রেখে বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে ঈদের সময়েও খেলোয়াড়দের ছুটি মেলেনি। দলের কোচ মওদুদুর রহমান শুভও পরিবার থেকে দূরে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শুভ বলেন, “দেশের জন্য সবাই খেলতে এসেছি। দেশের সম্মানই আমাদের কাছে বড়। এখন ঈদে খেলতে বাইরে আসতে হয়েছে, কিছু তো করার নেই।”

অন্যদিকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী দল বর্তমানে ইংল্যান্ডে অনুশীলনে ব্যস্ত। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে দলটি পেশাদার মানসিকতায় ঈদের সময়েও মাঠের প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

খেলোয়াড় ও কোচদের মতে, উৎসবের সময় পরিবার থেকে দূরে থাকলেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গর্বই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত আনন্দকে তারা পিছনে ফেলছেন।