মিরপুরে প্রথম টেস্টের অনুশীলনে দেখা গিয়েছিল বাবর আজমকে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চোটের কারণে ম্যাচটি তাঁর খেলা হয়নি। সিলেট টেস্টের আগে পাকিস্তানের কোচ সরফরাজ আহমেদের সংবাদ সম্মেলনে প্রথম প্রশ্নই ছিল, বাবর আজম কি খেলবেন? উত্তর হ্যাঁ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসে আরেক প্রশ্ন, কার জায়গায়? এবার পাকিস্তানের কোচ বললেন, 'একাদশ টসের পর পেয়ে যাবেন!'
চোট কাটিয়ে ফিরছেন বাবর
মিরপুর টেস্টের আগের দিন চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন বাবর। ওই ম্যাচের সময়ই সেরে ওঠা বাবরের সিলেটে খেলাটা নিশ্চিত। তাঁর জায়গায় ওই ম্যাচ খেলা আবদুল্লাহ ফজল ভালো করেছেন, তাঁকে বাদ দেওয়াটা কঠিন। ইমাম–উল–হককে বাদ দিয়ে তাই আজ পাকিস্তানের ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে শান মাসুদকে।
ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন
বাবর ফিরলেও অবশ্য পাকিস্তানের খুব একটা স্বস্তি নেই। টেস্টে সর্বশেষ আট ইনিংসে তাঁর ফিফটি কেবল একটি। সাদা বলের ক্রিকেটে অবশ্য ভালো সময়ই কাটছে। ওয়ানডেতে এক ম্যাচ আগেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজ শুরুর তিন দিন আগে শেষ হওয়া পিএসএলে ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, ওই টুর্নামেন্টে করেছিলেন দুটি সেঞ্চুরিও।
সরফরাজের আত্মবিশ্বাস
সংবাদ সম্মেলনে সরফরাজ আহমেদ সেই আত্মবিশ্বাসেই বাবরের ফেরায় ইতিবাচকতা খুঁজছেন। তিনি বলেন, 'এটা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। সে পিএসএলে যেভাবে খেলেছে, দেখে মনে হয়েছে টেকনিক্যালি খুবই শক্তিশালী ও মানসিকভাবে সতেজ আছে। তাঁকে পাওয়ায় আমরা খুশি।'
বাংলাদেশের পরিকল্পনা
বাবর ফর্মে থাকুন বা না থাকুন, পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য তিনি বড় নাম। বাংলাদেশের বিপক্ষেও ৫ টেস্টের ৮ ইনিংসে ৪৩.৭১ গড়ে রান আছে তাঁর, আছে একটি সেঞ্চুরিও। তাঁর ফেরায় বাংলাদেশ কি একটু চাপে পড়বে? আজ সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক একরকম উড়িয়েই দিয়েছেন তা। তিনি বলেন, 'আমরা যখন দুইটা ম্যাচ পাকিস্তানে গিয়ে হারিয়েছিলাম, সে দুইটা টেস্টই খেলেছে, তারপরও তারা হেরে গিয়েছিল। আমরা জানি কোথায় তাকে আঘাত করতে হবে। পরিকল্পনা আছে, সেটা যদি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে আমরা তাকেও চাপে ফেলতে পারব এবং পুরো দলকে চাপে ফেলতে পারব।'
পাকিস্তানের চাপ
পাকিস্তান অবশ্য এমনিতেই চাপে আছে বেশ। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচ হারের পর মিরপুর টেস্টেও তারা হেরেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা হারে সমালোচনাও হচ্ছে বেশ। সেটি কাটিয়ে উঠে সিলেটে ভালো করতে হবে তাদের। এ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সরফরাজ বলেন, 'দল হিসেবে প্রথম ম্যাচ হেরে আমরা অবশ্যই হতাশ। কিন্তু অতীত তো অতীতই। আমরা পরের ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী। ইনশা আল্লাহ এই ম্যাচে দল হিসেবে আমরা ফিরে আসব।'



