সাকিবের কাছে মামলা থেকে নাম বাদ দিতে এক কোটি টাকা দাবি
সাকিবের কাছে মামলা থেকে নাম বাদ দিতে এক কোটি টাকা দাবি

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে অবস্থান করছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যাকাণ্ডে নির্দেশদাতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মামলা থেকে নাম বাদ দিতে টাকার প্রস্তাব

মামলাটির দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন সাকিব। তবে প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তার। এর মধ্যেই মামলা থেকে নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই ক্রিকেটার।

সম্প্রতি দেশের একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, টাকার একটা প্রস্তাব আমার কাছে এসেছে। বলা হয়েছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে, তারা হয়তো বুঝতে পারেনি—মামলা হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম সরানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই প্রমাণ হতে হবে যে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রস্তাবদাতার পরিচয়

কারা এই প্রস্তাব দিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যে ব্যক্তির নাম রয়েছে, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাকিব আরও বলেন, ‘এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো আমার সমস্যা আছে এবং আমি সেখান থেকে বাঁচতে চাই। হয়তো তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক টাকা আছে, তাই চাইলেই পাওয়া যাবে।’

মামলার বিবরণ

ঢাকার আদাবরে গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাকিবকে ২৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মামলায় ১৫৬ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহত রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম রাজধানীর আদাবর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্ট আদাবরের রিং রোড এলাকায় একটি প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন গার্মেন্টসকর্মী রুবেল। এ সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশ, প্ররোচনা ও সহযোগিতায় মিছিলে গুলি চালানো হয়। এতে রুবেল বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।