নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক শিশুকে (৫) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলা তুলে নিতে বাদীকে বারবার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে মেয়েটির মা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি ইউনিয়নে পাঁচ বছরের ওই শিশুটিকে তার নানার কাছে রেখে মা–বাবা গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। গত ২১ এপ্রিল বিকেলে প্রতিবেশী এক কিশোর (১৬) তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনার পরবর্তী ঘটনা
ঘটনার পর শিশুটির পরিবার ওই কিশোরের পরিবারের কাছে বিচার চাইলে তারা উল্টো গালমন্দ করে তাড়িয়ে দেয়। পরে থানায় মামলা করতে চাইলে গ্রাম্য কয়েকজন মাতবর বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে মামলা করতে নিষেধ করেন। এরপর মাতবরেরা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে মামলা করতে গেলে থানায় পুলিশ মামলা নেয়নি বলে পরিবার অভিযোগ করে।
আদালতে মামলা ও আসামি গ্রেপ্তার
বাধ্য হয়ে ২৬ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই কিশোরকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে গাজীপুরে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে আসামিপক্ষ বাদীকে বারবার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। গত রোববার সকাল সাতটার দিকে শিশুটির চাচা বাড়ির পাশের জমিতে বোরো ধান কাটতে গেলে আসামিপক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁকে ধাওয়া করেন। এ ঘটনায় গতকাল থানায় জিডি করা হয়েছে।
বাদীর বক্তব্য
মামলার বাদী শিশুটির মা বলেন, ‘আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশসহ অব্যাহত হুমকি দিচ্ছেন। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সবশেষ রোববার আমার দেবর তার জমিতে ধান কাটতে গেলে আসামিপক্ষের লোকজন সেখানে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং তাকে ধাওয়া দেন। পরে সে দৌড়ে বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরিবারের সদস্য ও মামলার সাক্ষীদের খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
অভিযুক্তের বাবার বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত কিশোরের বাবার মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



