বাংলাদেশের বক্সিং জগতে শোকের ছায়া
বাংলাদেশের বক্সিং অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। সাবেক বক্সার, কোচ ও সংগঠক সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদ মহী আর নেই। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।
বক্সিংয়ের সঙ্গে একাত্ম জীবন
সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদ মহীর জীবনজুড়েই ছিল বক্সিংয়ের গভীর প্রেম। এক সময় নিজে বক্সার হিসেবে সুনাম অর্জন করলেও খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি কোচ ও সংগঠক হিসেবে নিজেকে বক্সিংয়ের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত রেখেছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে অসংখ্য বক্সার তৈরিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খিলগাঁও তিলপাপাড়া জোড়পুকুর মাঠে নিজের আবাসস্থলের কাছেই প্রায় প্রতিদিন শিশু-কিশোরদের বক্সিং প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি।
মহিউদ্দিন বক্সার, কোচ, জাজ ও সংগঠক—সব ভূমিকাতেই নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক, রেফারি জাজ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, আন্তর্জাতিক বক্সিং কোচ (গ্রেড-২) এবং ফেডারেশনের চিফ কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। বয়স ৬৬ হলেও তরুণদের মতো প্রতিদিনই বক্সিং রিংয়ে সময় কাটাতেন। দীর্ঘদিন বক্সিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তার মৃত্যুতে বক্সিং অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার ও শেষকৃত্য
মহীর দুই ছেলের মধ্যে একজন সৈয়দ রাশেদ আহমেদ তুর্য, যিনি একজন ফুটবলার। তিনি একসময় জাতীয় যুব দলের স্কোয়াডে ছিলেন এবং প্রায় এক দশক আগে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। মহীকে বাদ মাগরিব খিলগাঁও তিলপাপাড়া জামে মসজিদে জানাজা শেষে সেখানকার কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনসহ ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের বক্সিং উন্নয়নে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।



