বক্সার সুর কৃষ্ণের ক্রীড়া কার্ড না পাওয়ার হতাশা: 'টাকার চেয়ে স্বীকৃতি সম্মানের'
খেলোয়াড়দের জীবিকা নিশ্চিত করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ক্রীড়া কার্ড ও ১ লাখ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। অনেকেই এই সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও, আবার কেউ কেউ তা না পেয়ে গভীর হতাশায় ভুগছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম সফল আন্তর্জাতিক পেশাদার বক্সার সুর কৃষ্ণ অন্যতম প্রধান নাম।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হতাশা
সোমবার (২০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে সুর কৃষ্ণ তার হতাশা ও অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, "২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমস চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৪ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় দলের পথচলা। ২০১৫ সালে রিও অলিম্পিক স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্কলারশিপের টাকা পেলাম না।"
ফেডারেশনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও নিষেধাজ্ঞা
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, "২০১৫ সালে ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আলী জেকো লন্ডনে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ট্রায়াল নিতে আসেন। সেখানে সারা বাংলাদেশের জাতীয় বক্সারদের ট্রায়ালে প্রথম সিলেকশন হয়। পরবর্তীকালে ফেডারেশনের সঙ্গে জেকোর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে লন্ডন যাওয়া বানচাল হয়ে যায়। জেকো স্যার ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে আমাকে লন্ডনে নিয়ে যান। লন্ডনে ৫ মাস ট্রেনিং নেওয়ার পর দেশে ফেরত আসি। দেশে আসার পর জানতে পারি— আমাকে ফেডারেশন থেকে ব্যান করা হয়েছে। তখন চলছিল শিলং গৌহাটির সাফ গেমসের প্রস্তুতি।"
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সুর কৃষ্ণ দীর্ঘ দুই বছর ফেডারেশন থেকে নিষিদ্ধ থাকেন। এরপর তিনি ভারতের হরিয়ানায় পেশাদার বক্সিংয়ের জন্য চলে যান। ২০১৮ সালে ৬ মাস ট্রেনিংয়ের পর তিনি দুটি পেশাদার বক্সিং ম্যাচে অংশ নিয়ে দুটিতেই জয়লাভ করেন।
জাতীয় দলে ফেরা ও আন্তর্জাতিক সাফল্য
২০১৮ সালে ফেডারেশনে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ হওয়ায় তিনি আবার জাতীয় দলে ডাক পান। ট্রায়ালের মাধ্যমে সিলেকশন হওয়ার পর ২০১৯ সালের সাফ গেমসে নেপালের কাঠমুন্ডুতে ব্রোঞ্জ মেডেল অর্জন করেন। ২০২০ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশ গেমস ও জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে যাওয়ার সুযোগ পান।
২০২২ সাল থেকে তিনি অ্যামেচার বক্সিং বাদ দিয়ে পুরোদমে পেশাদার বক্সিং শুরু করেন। বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার বক্সার হিসেবে ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক বেল্ট অর্জন করেন। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে পেশাদার বক্সিংয়ে ১০ টি ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই জয়লাভ করেছেন।
ক্রীড়া কার্ড না পাওয়ার বেদনা
সুর কৃষ্ণ তার পোস্টে লিখেছেন, "নানা চড়াইউতরাই পার করে আজকের এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। কিন্তু সরকার মনোনীত ক্রীড়া কার্ড প্রদানের তালিকায় আমার নাম আজ পর্যন্ত দেখলাম না। ক্রীড়া কার্ড সবচেয়ে দরকার আমাদের মতো পিছিয়ে পড়া গেমসের জন্য।"
তিনি আরও যোগ করেছেন, "অনেক গেমসের জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ও এখনও ক্রীড়া কার্ড পাননি, যারা বছরের পর বছর নীরবে দেশের জন্য লড়ে গেছেন। আমি মনে করি, টাকা অবশ্যই দরকার। কিন্তু টাকার চেয়ে স্বীকৃতি আরও সম্মানের।"
সুর কৃষ্ণের এই প্রকাশিত হতাশা বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসন ও খেলোয়াড় কল্যাণ নীতির বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেক ক্রীড়াবিদই সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।



