খাগড়াছড়ির রামগড়ে রাতে বাসচাপায় এক যাত্রী নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযুক্ত বাসচালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া শ্যামলী পরিবহনের চালক রব শেখের মরদেহ আজ সোমবার ভোরে নাকাপা বাজার এলাকার একটি যাত্রীছাউনির সামনে পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর উপজেলার নাকাপার চাষিনগর এলাকায় ঢাকাগামী শান্তি পরিবহনের একটি বাস সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে পাংচার হওয়া চাকা মেরামতের কাজ চলছিল। এ সময় খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি বাস শান্তি পরিবহনকে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো যাত্রীদের চাপা দেয়। এতে শাহ আলম (৩৬) নামের এক বাসযাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরও দুজন।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহত শাহ আলম খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শান্তিনগর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছিলেন। আহত দুজন হলেন জুনায়েদ (২৫) ও রুবেল কর্মকার (৩৯)। গতকাল রাতেই তাঁদের রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চালকের মৃত্যু
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আজ ভোরে জালিয়াপাড়া রামগড় সড়কের নাকাপা বাজারের যাত্রীছাউনির সামনে রব শেখ নামের শ্যামলী পরিবহনের চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর ব্যাগে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। তিনি পাবনা জেলার বাসিন্দা। নাকাপা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. কাউছার বলেন, দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, দুর্ঘটনার পর শ্যামলী পরিবহনের চালক বাসটি নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পালিয়ে যান। পরে সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত শ্যামলী ও শান্তি পরিবহনের দুটি বাস পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।



