বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় নানা আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহর থেকেই শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।
রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ
প্রতিবছরের মতো এবারও রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মূল আয়োজন। সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে শিল্পীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীদের কণ্ঠে 'এসো হে বৈশাখ' গানটি গেয়ে ওঠেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা
সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে বের হয় ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। বর্ণিল সাজে সজ্জিত বিশালাকার পাপেট, মুখোশ ও বিভিন্ন প্রতীকী মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি ও হাইকোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ করে। এ বছর শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল 'শান্তি ও সম্প্রীতি'।
পান্তা-ইলিশের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন
পহেলা বৈশাখের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী অংশ হলো পান্তা-ইলিশ খাওয়া। রাজধানীর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বাড়িঘরে আজ সকালে পান্তা-ইলিশ খেতে দেখা গেছে অসংখ্য মানুষ। ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁর মালিক জানান, 'প্রতি বছরের মতো এবারও পান্তা-ইলিশের জন্য ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা প্রায় পাঁচশো প্যাকেট পান্তা-ইলিশ বিক্রি করেছি।'
বাংলা নববর্ষের অর্থনৈতিক প্রভাব
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ। নতুন বছরের শুরুতে কেনাকাটার জন্য বাজারে উপচে পড়া ভিড়। শাড়ি, পাঞ্জাবি ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্যমতে, এবারের পহেলা বৈশাখে রাজধানীর ব্যবসায়ীদের আয় গত বছরের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসেছে বৈশাখী মেলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, রবীন্দ্র সরোবর ও শ্যামলীর মিলনায়তনে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শাহবাগ, মৎস্য ভবন মোড় ও হাইকোর্ট মোড় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, 'উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যানজট নিরসনে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি।'
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্ষবরণের ছবি
পহেলা বৈশাখের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে লাল-সাদা পোশাকে নববর্ষ উদযাপনের অসংখ্য ছবি পোস্ট করছেন নেটিজেনরা। #পহেলাবৈশাখ #বাংলানববর্ষ হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিংয়ে উঠে এসেছে।
পরিবেশ সচেতনতা
এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচেতনতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্লাস্টিক ব্যবহার বর্জনের আহ্বান জানানো হয়। ছায়ানটের অনুষ্ঠানেও প্লাস্টিক বর্জনের বার্তা দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, 'আমরা পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের চেষ্টা করেছি।'



