ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মেলা
রাজধানীতে দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে ঘিরে আয়োজিত ‘বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু মেলা-২০২৬’। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। মিরপুর-১৩ নম্বরে অবস্থিত শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই তিন দিনব্যাপী মেলা চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আয়োজক ও অতিথিদের উপস্থিতি
‘ঢাকাস্থ পার্বত্য উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর উদ্যোগে এবং সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহযোগিতায় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
মেলার বৈশিষ্ট্য ও আকর্ষণ
এবারের মেলায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্টলে পার্বত্য অঞ্চলের টাটকা কৃষিপণ্য, জুমের সবজি, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এবং পাহাড়ি খাবারের সমাহার থাকছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য পরিবেশনা। সমাপনী দিনে (১১ এপ্রিল) আয়োজন করা হবে লটারি ড্র। মেলায় অংশ নিচ্ছেন পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তা জিলিয়ান তালুকদার। তার স্টল ‘কোরিয়ান গ্ল্যাম বাংলাদেশ’-এ পাহাড়ি ঐতিহ্যের পাশাপাশি কোরিয়ান পণ্যও পাওয়া যাবে।
বিশেষ আয়োজন ও প্রতিক্রিয়া
মেলার পরদিন ১২ এপ্রিল বসবে ‘স্পেশাল বিজু বাজার’, যেখানে উৎসব উপলক্ষে টাটকা সবজি, পোশাক ও শুকনা খাবারের বিশেষ আয়োজন থাকবে। আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব সুবিমল চাকমা জানান, পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি রাজধানীর মানুষের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। আহ্বায়ক দো অং মারমা রাজধানীবাসীকে মেলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, মেলার অন্যতম আয়োজক ও হেবাং রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী বিপলী চাকমা বলেন, গত বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও ব্যাপক সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তারা।
যাতায়াতের সুবিধা
প্রসঙ্গত, মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন থেকে রিকশায় মাত্র পাঁচ মিনিটে মেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছানো যাবে। এই সুবিধা দর্শনার্থীদের জন্য যাতায়াতকে আরও সহজ করে তুলেছে।



