দিনের শুরুতে এক কাপ চা বা কফি— অনেকের কাছেই এটি একটি দৈনন্দিন অভ্যাস। কেউ কফির তীব্র স্বাদ ও দ্রুত এনার্জির জন্য এটি পছন্দ করেন, আবার কেউ চায়ের মৃদু স্বাদ ও আরামদায়ক অনুভূতির দিকে ঝুঁকেন। তবে সকালে খালি পেটে কোন পানীয়টি বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞদের মতে, চা ও কফি দুটিই উপকারী হতে পারে। তবে শরীরের ধরন, ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতা এবং হজমশক্তির ওপর নির্ভর করে একেকজনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
কফির প্রভাব
কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দ্রুত শরীরে উদ্দীপনা তৈরি করে। ফলে মনোযোগ বাড়ে এবং ক্লান্তি কমে। তবে খালি পেটে কফি পান করলে অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা ও কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি উদ্বেগ, মাথাব্যথা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা দিনের পরে হঠাৎ দুর্বলতা তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিক, উদ্বেগজনিত সমস্যা, পিসিওএস বা সংবেদনশীল হজমশক্তি রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত কফি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা ও সামান্য কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সঙ্গেও কফির সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চায়ের প্রভাব
অন্যদিকে চা, বিশেষ করে গ্রিন টি ও হার্বাল টি তুলনামূলকভাবে মৃদু প্রভাব ফেলে। এতে থাকা এল-থিয়েনিন মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। চা সাধারণত অন্ত্রের জন্যও বেশি সহায়ক বলে মনে করা হয়।
তবে চা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। অতিরিক্ত চা পান করলে অনিদ্রা, বুক ধড়ফড়, দাঁতে দাগ পড়া এবং আয়রন শোষণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যদিও এসব ঝুঁকি কফির তুলনায় তুলনামূলক কম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যদি দ্রুত এনার্জির প্রয়োজন হয় এবং ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতা ভালো থাকে, তাহলে সীমিত পরিমাণে কফি পান করা যেতে পারে। আর দীর্ঘসময় স্থিতিশীল শক্তি, ভালো হজম ও তুলনামূলক কম স্বাস্থ্যঝুঁকি চাইলে চা হতে পারে ভালো বিকল্প।



