গালভর্তি কালচে দাগ, ঠোঁটের আশপাশে বা নাকের ডগায় ছোপছোপ দাগ অনেকের জন্যই বিরক্তির কারণ। প্রথমে তিল মনে হলেও পরে বুঝতে পারেন এটি মেছতা বা মেলাসমার সমস্যা। পার্লারে গিয়ে ব্লিচ করিয়ে কিছুদিনের জন্য দাগ কমালেও কয়েকদিন পরেই তা ফিরে আসে এবং আরও বাড়তে থাকে। মুখের এমন দাগ নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতে অস্বস্তি লাগে স্বাভাবিক।
মেছতা দূর করতে ফিটকিরির কার্যকারিতা
মুখে মেছতার দাগ পড়লে বেশিরভাগ মানুষই দামি রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু বাড়িতেই থাকা একটি উপাদান এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। সেই উপাদানটি হলো ফিটকিরি। ফিটকিরিতে থাকা অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট উপাদান ত্বকের অতিরিক্ত মেলানিন নিয়ন্ত্রণ করে পিগমেন্টেশন কমাতে দারুণ কার্যকর। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফিটকিরি ব্যবহার করা জরুরি।
এছাড়া ফিটকিরির অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। কিন্তু সরাসরি ফিটকিরি ত্বকে ঘষা উচিত নয়। সবসময় গুঁড়ো করে অন্য কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
গোলাপজল ও ফিটকিরির মিশ্রণ
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গোলাপজল ও ফিটকিরির মিশ্রণ তৈরি করা। ফিটকিরি গুঁড়ো করে তাতে সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। মেছতা আক্রান্ত জায়গায় হালকা হাতে মালিশ করে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের ট্যান কমবে এবং ত্বকের রঙ উজ্জ্বল হবে।
মুলতানি মাটি ও ফিটকিরির মিশ্রণ
যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের জন্য মুলতানি মাটি ও ফিটকিরি সেরা উপাদান। সপ্তাহে মাত্র একদিন এই মিশ্রণ মুখে লাগালে শুধু দাগছোপ নয়, ব্রণের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর যাদের ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক, তারা ফিটকিরির সঙ্গে নারিকেল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে এই মিশ্রণ মেছতার জায়গায় লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক টান টান হবে এবং আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।



