প্লাস্টিক দূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে
প্লাস্টিক দূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে

প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোক্তা সচেতনতা ও সরকারি নীতিমালার কারণে এই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ

গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজারের আকার ছিল ২৫০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৮ সালের মধ্যে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বাজার সম্প্রসারণের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ।

বাংলাদেশেও প্লাস্টিক দূষণ রোধে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে পাট, বাঁশ ও কাঠের তৈরি পণ্যের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার একটি বড় অংশ নদী ও সমুদ্রে গিয়ে মিশে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি উদ্যোগ ও নীতিমালা

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২০ সালে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করার পর থেকে বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বেড়েছে। সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা ইসলাম বলেন, 'প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছি, যাতে পরিবেশবান্ধব পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার উৎসাহিত হয়।'

এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রচারে কাজ করছে। 'বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন' (বাপা) নামক একটি সংগঠনের সমন্বয়ক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ও বাঁশের তৈরি পণ্য ব্যবহারের জন্য আমরা নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভোক্তা সচেতনতা ও চাহিদা

ভোক্তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ার ফলে টেকসই পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'তরুণ প্রজন্ম পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক।'

তবে পরিবেশবান্ধব পণ্যের উচ্চমূল্য এখনও একটি বড় বাধা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন খরচ কমাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়া পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের অবকাঠামো উন্নয়নেও জোর দিতে হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের হার বাড়াতে আধুনিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্যও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।