২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ: বন বিভাগের প্রকল্পে আশা ও চ্যালেঞ্জের সমন্বয়
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ: আশা ও চ্যালেঞ্জের সমন্বয়

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ: আশা ও বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান

বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুসারে, বন বিভাগ ইতিমধ্যেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

প্রকল্পের রূপরেখা ও বিভাজন

প্রস্তাবিত প্রকল্পে দেশের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, পরিবেশগত প্রয়োজনীয়তা ও আর্থসামাজিক পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণকে ৬টি খাতে ভাগ করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি তিন ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের ধারণাপত্রে আশাবাদ ও স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকার প্রকাশ করা হলেও অতীতের অভিজ্ঞতা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান উদ্বেগ

বন বিভাগের পূর্ববর্তী ‘নিসর্গ’ ও ‘সুফল’ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা এখনো স্মরণীয়। এসব প্রকল্প বন সংরক্ষণে কতটা কার্যকর ছিল, তা জনসমক্ষে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। লেখক মোকারম হোসেন তাঁর ২৭ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে উল্লেখ করেন যে বন বিভাগের কর্মকাণ্ড সর্বদা সুখকর নয়। দেশের বন ও পাহাড়ের বর্তমান অবস্থা এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পাদনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি স্থান ও প্রজাতি নির্বাচন, চারার উৎস নির্ধারণ এবং রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যা নিশ্চিত করবে। গাছ লাগানো সহজ হলেও বিপুল সংখ্যক গাছ টিকিয়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হলে বছরে গড়ে ৫ কোটি গাছ রোপণ করতে হবে, যা দায়সারা কাজের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা ও সমন্বয়

এই কর্মযজ্ঞ এককভাবে বন বিভাগের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। উদ্ভিদবিজ্ঞান, ফরেস্টি, আরবারিকালচার ও অ্যাগ্রিকালচার বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানদের সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। দেশে উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের সংখ্যা সীমিত, তাই তাদের মূল্যবান জ্ঞান এই প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বৃক্ষরোপণের সম্ভাব্য স্থান ও পদ্ধতি

জনবহুল বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইকোনমিক জোনের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করা যেতে পারে। সড়কে গাছ লাগানোর সময় প্রশস্ততা ও যানবাহনের নিরাপত্তা বিবেচনা করতে হবে। বন ও পাহাড়ে হেলিকপ্টার বা ড্রোনের মাধ্যমে বীজ ছিটানোও একটি বিকল্প হতে পারে। বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

গাছের নিরাপত্তা ও টেকসই পরিচর্যা

গাছ রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩ ফুট উঁচু চারা সংগ্রহ করতে হবে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে টিকে থাকতে পারে। বন বিভাগের নার্সারিগুলো এককভাবে ২৫ কোটি চারা সরবরাহ করতে অক্ষম, তাই বেসরকারি নার্সারির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। গাছের পরিচর্যার জন্য সার, কীটনাশক, খুঁটি ও বেড়া ব্যবহার অপরিহার্য। স্থানীয় কমিউনিটি ও প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বৃক্ষরোপণ-পরবর্তী দুই বছরের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

সরকারের সদিচ্ছাকে স্বাগত জানানো হলেও এই প্রকল্প যাতে প্রহসনে পরিণত না হয়, সে জন্য সতর্কতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। ৫ বছরে অন্তত ১০ কোটি গাছ টিকিয়ে রাখলেই এই উদ্যোগকে সফল হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।