বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা অষ্টম স্থান অধিকার করেছে
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা, বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী শহর, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে অষ্টম স্থান দখল করেছে। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে শহরের বায়ু মান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ১২৭ রেকর্ড করা হয়েছে, যা বায়ু দূষণের মাত্রা নির্দেশ করছে।
বায়ু মান সূচকের শ্রেণিবিভাগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
একিউআই স্কেল অনুযায়ী, ঢাকার বায়ু 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো, এই বায়ু দূষণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
বায়ু মান সূচকের মাত্রাগুলো নিম্নরূপ:
- ১০১ থেকে ১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
- ১৫১ থেকে ২০০: অস্বাস্থ্যকর
- ২০১ থেকে ৩০০: অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর
- ৩০১ এর উপরে: বিপজ্জনক, যা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে
বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলো
বৃহস্পতিবারের তালিকায় থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই, পাকিস্তানের করাচি এবং ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরগুলো শীর্ষ তিনটি দূষিত শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে। এই শহরগুলোর একিউআই স্কোর যথাক্রমে ১৭০, ১৬৫ এবং ১৬৩ রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকার অবস্থান এই শহরগুলোর পরে অষ্টম স্থানে রয়েছে, যা শহরের ক্রমাগত বায়ু দূষণ সমস্যার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
বায়ু মান সূচক কী এবং কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
বায়ু মান সূচক দৈনিক বায়ুর গুণমান পরিমাপ করে, যা নির্দেশ করে বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং মানুষ কী ধরনের স্বাস্থ্য প্রভাব অনুভব করতে পারে। বাংলাদেশে, একিউআই পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়:
- পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫)
- নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড
- কার্বন মনোক্সাইড
- সালফার ডাইঅক্সাইড
- ওজোন
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর বায়ু দূষণের সম্মুখীন হচ্ছে। শহরের এই পরিস্থিতি সাধারণত শীতকালে আরও খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণ কাজের ধুলা এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কার্যক্রম বায়ু দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মৃত্যুগুলোর প্রধান কারণগুলো হলো:
- স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
- হৃদরোগ
- দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ
- ফুসফুসের ক্যান্সার
- তীব্র সংক্রমণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে, বায়ু দূষণ শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যাই নয়, বরং অর্থনৈতিক ক্ষতিও সৃষ্টি করছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়া হয়েছে।
ঢাকার বায়ু দূষণ পরিস্থিতি নাগরিকদের জন্য ক্রমাগত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা দূষণ কমানোর জন্য পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শহরের বায়ু মান উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।



