২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে নীতি সহায়তা, অর্থায়ন ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা ক্রমাগত বাড়ছে। উচ্চ ভর্তুকির চাপ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে, তাই দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর জরুরি।
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন খান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থায়ন কাঠামো পরিবর্তন প্রয়োজন। ভর্তুকির একটি অংশ এই খাতে স্থানান্তর করলে বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলেও বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি রয়েছে। সৌর সরঞ্জামের ওপর উচ্চ কর ও নীতিগত জটিলতা বড় বাধা।
সমাধানের পথ
ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, এখন সময় এসেছে ‘নিজের বিদ্যুৎ নিজে উৎপাদন’ মডেল বাস্তবায়নের। এজন্য সরকারকে সহায়ক নীতি গ্রহণ করতে হবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধান না হলে অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হবে। তার মতে, সৌরবিদ্যুৎই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
বক্তারা আরও বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সফল হলে বছরে বিপুল অঙ্কের জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব হবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে নীতি সহায়তা, কর হ্রাস, অর্থায়ন কাঠামো উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিতে হবে।



