নবজাতকের আগমন যেমন আনন্দে ভরিয়ে দেয়, তেমনি নিয়ে আসে ঘুমহীন রাত এবং নতুন অভিজ্ঞতার চ্যালেঞ্জ। নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বড় একটি কাজ হলো শিশুর নীরব ভাষা বোঝা। যেহেতু নবজাতক কথা বলতে পারে না, তাই তারা তাদের প্রয়োজন বোঝাতে কান্না ও বিভিন্ন শারীরিক ইঙ্গিত ব্যবহার করে। কিন্তু কান্না শুরু হওয়ার আগেই যদি ক্ষুধার লক্ষণগুলো ধরা যায়, তাহলে শিশুকে শান্তভাবে খাওয়ানো সম্ভব হয় এবং তার সঙ্গে সম্পর্কও আরও দৃঢ় হয়।
নবজাতককে কতবার খাওয়াবেন?
সাধারণভাবে নবজাতককে দিনে ৮–১০ বার খাওয়ানো প্রয়োজন। যদিও কেউ কেউ নির্দিষ্ট সময় মেনে চলেন, বাস্তবে শিশুরা অনিয়মিত বিরতিতে খেতে চায়, বিশেষ করে প্রথম দিকে। তাই সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে খাওয়ানো উচিত। অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে অন্তত প্রতি তিন ঘণ্টায় একবার খাওয়ানো জরুরি।
ক্ষুধার আগাম সংকেত
শিশুরা সাধারণত কান্নার আগে কিছু লক্ষণ দেখায়। এগুলো বুঝতে পারলে সময়মতো খাওয়ানো সহজ হয়। যেমন—মুখ খোলা-বন্ধ করা, মাথা এদিক-ওদিক ঘোরানো, হাত মুখে নেওয়া, আঙুল বা মুঠি চোষা, ঠোঁট চাটা, অস্থিরতা বা শরীর নাড়াচাড়া। শিশুকে কাছে রাখা এবং ত্বকের সংস্পর্শ বজায় রাখলে এসব সংকেত বোঝা সহজ হয়।
সব কান্না কি ক্ষুধার জন্য?
না, সব সময় নয়। শিশুকে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে যদি সে ভালোভাবে খায়, তাহলে বুঝবেন সে ক্ষুধার্ত ছিল। কিন্তু যদি কান্না থামছে না, পা গুটিয়ে ফেলে, চোখ ঘষে বা অস্বস্তি দেখায়, তাহলে অন্য কারণও থাকতে পারে—যেমন গ্যাস, ক্লান্তি, ভেজা ডায়াপার বা শুধু আদর চাওয়া।
বৃদ্ধির সময়ে বেশি খাওয়া
কিছু নির্দিষ্ট সময়ে শিশুর দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে, যেমন—দ্বিতীয় সপ্তাহ, ষষ্ঠ সপ্তাহ, তিন মাস বয়সে। এই সময়গুলোতে তারা বেশি বেশি খেতে চাইতে পারে, যা স্বাভাবিক।
চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানো কেন ভালো
কঠোর সময়সূচীর বদলে শিশুর চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানোই উত্তম। এতে শিশুর আরাম হয় এবং খাওয়ানোর অভিজ্ঞতাও সহজ হয়। এজন্য—শান্ত পরিবেশ রাখা, সঠিকভাবে দুধ খাওয়ানোর অবস্থান নিশ্চিত করা, মানসিক চাপ কম রাখা জরুরি।
অতিরিক্ত খাওয়ানোর ঝুঁকি
প্রতিটি কান্নাকে ক্ষুধা ভেবে খাওয়ালে অতিরিক্ত খাওয়ানো হতে পারে। তাই শিশুর আচরণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার, যাতে তার হজম ঠিক থাকে এবং ওজন স্বাভাবিকভাবে বাড়ে।



