বৃষ্টি এলেই কেন জানি খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে। বৃষ্টির সঙ্গে শারীরিক কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা বিজ্ঞানীরা ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু এ মুহূর্তে চলছে ধুম বৃষ্টি। তাই আমার চাই খিচুড়ি।
বৃষ্টি ও খিচুড়ির সম্পর্ক
বৃষ্টি নেমেছে, তাই আজ খিচুড়ি খেতে হবে। তা না খেলে যেন কিছু একটা অপূর্ণ থেকে যাবে। এই অনুভূতিটা এত পরিচিত ও গভীর যে, এ নিয়ে আমরা কেউ-ই খুব একটা প্রশ্ন তুলি না। বরং স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিই— বৃষ্টি মানেই খিচুড়ি। যেন এই সমীকরণটা আমাদের ভেতরে কোথাও চুপচাপ লিখে রাখা আছে।
জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দে বৃষ্টি পড়ছে। আকাশ ধূসর হয়ে আসে। দূরের গাছগুলো ঝাপসা লাগে। বাতাসে একটা ভেজা গন্ধ। মাটির গন্ধ। সেই গন্ধ নাকে ঢুকতেই মনটা একটু নরম হয়ে যায়। ব্যস্ততা থেমে যায়। সময় ধীর হয়। এই ধীর হয়ে যাওয়ার মুহূর্তেই কোথা থেকে যেন মাথায় আসে— আজ খিচুড়ি খাওয়া যায়।
খিচুড়ি শুধু খাবার নয়, স্মৃতি
খিচুড়ি কেবল একটা খাবার না— এটি একটি স্মৃতি, একটি ঘর, একটি সময়; যেটি আমরা হারিয়ে ফেলেছি, কিন্তু পুরোপুরি ভুলিনি। বৃষ্টির দিনে গরম গরম ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি এক অদ্ভুত তৃপ্তি এনে দেয়। মুগ ডালের ভুনা খিচুড়ি, মাংসের খিচুড়ি কিংবা সবজির খিচুড়ির সঙ্গে ডিম ভাজা, বেগুন ভাজা বা আচার— এ খাবারগুলোকে করে তোলে আরও দারুণ।
বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির রেসিপি
উপকরণ
- পোলাও কিংবা কাটারিভোগ চাল ২ কাপ
- মুগ ও মসুর ডাল মিক্স ১ কাপ
- পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
- আদা ও রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ করে
- হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ
- মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ
- গোটা গরম মসলা (এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও তেজপাতা)
- লবণ স্বাদমতো
- কাঁচামরিচ ৫-৭টি
- পানি পরিমাণমতো
প্রণালি
- প্রথমে ডাল হালকা ভেজে চালের সঙ্গে মিশিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।
- এরপর কড়াইতে তেল গরম করে গোটা গরম মসলা ও পেঁয়াজ কুচি সোনালি করে ভাজুন।
- এবার সব মসলা, আদা-রসুন বাটা ও সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন।
- এরপর চাল-ডালের মিশ্রণটি দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন।
- এবার চাল ও ডালের দ্বিগুণ গরম পানি ও লবণ দিন।
- পানি ফুটে উঠলে কাঁচামরিচ দিয়ে আঁচ কমিয়ে ঢেকে দিন।
- চাল ও ডাল সেদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে এলে ওপর থেকে সামান্য ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে ফেলুন।
- এবার পরিবেশন করুন।
বৃষ্টির দিনে এই গরম গরম খিচুড়ি পরিবেশন করুন ডিম ভাজা, বেগুন ভাজা বা আচারের সঙ্গে। উপভোগ করুন বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার সঙ্গে মিশে যাওয়া এই অসাধারণ স্বাদ।



