বুক বা গলায় জ্বালাপোড়া, যা সাধারণত অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাসজনিত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে, তা নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্য নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। কম অ্যাসিডযুক্ত ও হালকা খাবার গ্রহণ করলে বুকজ্বালা ও অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পেটের অ্যাসিড যখন উপরের দিকে উঠে খাদ্যনালিতে প্রবেশ করে, তখনই বুকজ্বালা, টক ঢেকুর ও অস্বস্তি দেখা দেয়।
বুকজ্বালা কমাতে সহায়ক ৭ খাবার
নিচের খাবারগুলো বুকজ্বালা কমাতে বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করেন চিকিৎসকরা:
১. পেঁপে
পেঁপে একটি পুষ্টিকর ফল। এতে থাকা এনজাইম প্যাপেইন হজমে সহায়তা করে এবং ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখে। এটি পেটের অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২. কলা
কম অ্যাসিডযুক্ত ফল হিসেবে কলা পেটের ভেতরের আস্তরণকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে বুকজ্বালা উপশমে কার্যকর।
৩. রাঙাআলু
দ্রবণীয় ফাইবারসমৃদ্ধ এই সবজি হালকা অ্যাসিডিক হওয়ায় অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এটি পেটের আস্তরণে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে।
৪. আদা
আদা প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহ কমায় এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, ফলে অস্বস্তি কমে। এটি চা বা রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. ওটস
উচ্চ ফাইবারযুক্ত ওটস অতিরিক্ত অ্যাসিড শোষণ করতে সহায়তা করে, যা বুকজ্বালা কমাতে কার্যকর। সকালের নাস্তায় ওটস খেলে পেট শান্ত থাকে।
৬. পপকর্ন
কম ফ্যাট ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত পপকর্ন পাকস্থলির অতিরিক্ত অ্যাসিড শোষণে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত মাখন বা লবণ ছাড়া খাওয়া ভালো।
৭. ইসবগুল
ইসবগুল পাকস্থলিতে জেল-জাতীয় আস্তরণ তৈরি করে, যা অ্যাসিডের প্রভাব কমিয়ে হজমে সহায়তা করে। এটি পানি বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক খাদ্য নির্বাচন বুকজ্বালা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



