কলা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও সহজলভ্য ফল, যা সারা বছর পাওয়া যায়। এটি পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি-র চমৎকার উৎস। কলা সস্তার ফল হওয়ায় অনেকেই প্রচুর পরিমাণে কিনে খান। তবে গ্রীষ্মকালে পাকা কলা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে টাকাও নষ্ট হয়।
গ্রীষ্মে কলা দ্রুত পাকে কেন?
উষ্ণ তাপমাত্রা কলার স্বাভাবিক পাকার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এটি ইথিলিন গ্যাসের কারণে ঘটে। কলা অন্যান্য ফলের তুলনায় সস্তা, তাই মানুষ বেশি খায়। কেউ কেউ একবারে ১-২ ডজন কলাও কিনে থাকে। তবে পাকা কলা কিনে তাড়াতাড়ি না খেলে সেগুলো আরও বেশি পেকে যায়, খোসা হলুদ থেকে কালো হয়ে যায়। অতিরিক্ত পাকা কলা কেউ খেতে চায় না এবং শেষ পর্যন্ত ফেলে দিতে হয়।
কলা সংরক্ষণের ৬টি কার্যকরী উপায়
১. অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বা প্লাস্টিক র্যাপ ব্যবহার
মাস্টার শেফ পঙ্কজ ভাদৌরিয়ার মতে, কলার বোঁটা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বা প্লাস্টিক র্যাপ দিয়ে মুড়িয়ে রাখলে কলা পাকা অন্তত ৪-৫ দিন বিলম্বিত হয়। এটি ইথিলিন গ্যাসের নির্গমন কমায়, ফলে পাকার গতি কমে যায়।
২. ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখা
পাকা কলা সবসময় ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখুন। সরাসরি সূর্যের আলো কিংবা গরম জায়গায় রাখলে দ্রুত পেকে যায়। রান্নাঘরের একটি ঠান্ডা, অল্প আলোযুক্ত এবং ভালো বায়ু চলাচল আছে এমন জায়গায় রাখা ভালো।
৩. ফ্রিজে সংরক্ষণ
পাকা কলা ফ্রিজে রাখতে পারেন। খোসা কালো হয়ে যেতে পারে, কিন্তু ভেতরের শাঁস অক্ষত থাকবে। তবে কাঁচা কলা ফ্রিজে রাখলে তা আর পাকবে না।
৪. অন্যান্য ফল থেকে দূরে রাখা
আম ও আপেলের মতো ফল থেকেও ইথিলিন গ্যাস নির্গত হয়। কলার সঙ্গে এগুলো মেশাবেন না, তাড়াতাড়ি পেকে যেতে পারে।
৫. কাঁদি আলাদা করা
কলার কাঁদি কিনলে সেগুলো আলাদাভাবে রাখুন। এটি পাকা কলাকে দ্রুত নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং ধীরে ধীরে পাকাতে সাহায্য করে।
৬. ঝুলিয়ে রাখা
কলা ঝুলিয়ে রাখলেও তা দ্রুত নষ্ট হয় না। এতে কলার ওপর চাপ কমে এবং বেশি দিন তাজা থাকে।



