বর্ষাকালে বৃষ্টির পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতাও বেড়ে যায়। এর ফলে ঘরের ভেতর স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, ভ্যাপসা গন্ধ, ছত্রাক এবং মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যায়। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে ঘরকে শুষ্ক, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।
প্রাকৃতিক বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন
বৃষ্টি থামলেই ঘরের জানালা-দরজা খুলে দিন, যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। এতে ঘরের আর্দ্রতা কমবে। রান্নাঘর ও বাথরুমে এডজাস্ট ফ্যান ব্যবহার করলে ভেতরের আর্দ্র বাতাস দ্রুত বাইরে চলে যায়।
নিয়মিত পরিদর্শন ও মেরামত
নিয়মিত ঘরের দেওয়াল, ছাদ ও পানির পাইপ পরীক্ষা করুন। কোথাও স্যাঁতস্যাঁতে দাগ, ছত্রাক, সাদা খনিজ পদার্থ বা পাইপে লিকেজ দেখা গেলে দ্রুত মেরামত করুন। দীর্ঘদিন এসব সমস্যা ফেলে রাখলে আর্দ্রতা আরও বাড়তে পারে।
রান্নাঘরে সঠিক ভেন্টিলেশন
রান্নাঘরে চিমনি বা ভালো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকলে রান্নার সময় তৈরি হওয়া বাষ্প সহজেই বের হয়ে যায়। এতে ঘরের ভেতরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আর্দ্রতা শোষণকারী গাছ
ঘরের ভেতরে বস্টন ফার্ন, পিস লিলি, অ্যারেকা পাম, ইংলিশ আইভি বা স্পাইডার প্ল্যান্টের মতো গাছ রাখতে পারেন। এসব গাছ বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণের পাশাপাশি ঘরের বাতাসও বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক আর্দ্রতা শোষক
আলমারি, ওয়ারড্রোব বা ঘরের কোণে একটি বাটিতে নুন, বেকিং সোডা রেখে দিলে এগুলো বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করবে। প্রতি সপ্তাহে এগুলো পরিবর্তন করা উচিত।
গন্ধ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ
আলমারি বা জুতার র্যাকে ভ্যাপসা গন্ধ দূর করতে সিলিকা জেলের ছোট প্যাকেট, শুকনো নিমপাতা, কর্পূর বা লবঙ্গের পুঁটলি রাখা যেতে পারে। এতে পোকামাকড়ের উপদ্রবও কমে।
ছত্রাক পরিষ্কারের পদ্ধতি
দেওয়াল বা আসবাবপত্রে ছত্রাক দেখা দিলে পানি ও ভিনেগার মিশিয়ে স্প্রে করে পরিষ্কার করুন। প্রয়োজনে টি ট্রি অয়েল বা ইউক্যালিপটাস অয়েল মিশ্রিত পানি দিয়ে ঘর মুছে নিলে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার কমানো সম্ভব।
নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব
বর্ষায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঘরকে স্যাঁতস্যাঁতে ও ছত্রাকমুক্ত রাখা সম্ভব।



