প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদে বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ শরীর সুস্থ রাখার সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সর্দি-কাশি, হজমের সমস্যা, ছোটখাটো ক্ষত, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা কিংবা দুর্বলতার মতো সাধারণ শারীরিক অসুবিধায় কিছু ভেষজ উপকারী হতে পারে। এ কারণেই আয়ুর্বেদে এসব ভেষজকে অনেক সময় 'প্রাকৃতিক ফার্স্ট এইড' হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ভেষজ উপাদান প্রাকৃতিক হলেও সবার শরীরে এর প্রভাব একরকম নাও হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, গর্ভবতী, স্তন্যদানকারী মা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ভেষজ নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত নয়।
তুলসি
সর্দি-কাশি, গলাব্যথা ও হালকা জ্বরের সময় তুলসি পাতার চা বা রস অনেকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। এছাড়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে তুলসির ভূমিকা নিয়ে আয়ুর্বেদে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
হলুদ
হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন প্রদাহ কমাতে সহায়ক বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ছোটখাটো ব্যথা, ফোলাভাব বা কাটা-ছেঁড়ার ক্ষেত্রে হলুদের ব্যবহার বহু পুরোনো। অনেকেই ঘরোয়া উপায়ে হলুদ মিশ্রিত দুধও পান করেন।
আদা
হজমের সমস্যা, গ্যাস, বমিভাব কিংবা ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি কমাতে আদা বেশ পরিচিত একটি ভেষজ। এক কাপ গরম আদা চা অনেকের শরীরে স্বস্তি এনে দিতে পারে।
আমলকী
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ আমলকী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। পাশাপাশি এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে বিবেচিত হয়।
পুদিনা
পেটের গ্যাস, বদহজম ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় পুদিনা উপকার করতে পারে। গরমের দিনে এটি শরীরে সতেজ অনুভূতি দিতেও সহায়ক।
অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা ত্বককে শীতল রাখতে সাহায্য করে। রোদে পোড়া ত্বক বা হালকা জ্বালাপোড়ায় এটি আরাম দিতে পারে। ত্বক ও চুলের যত্নেও অ্যালোভেরার ব্যবহার জনপ্রিয়।
যষ্টিমধু
গলাব্যথা, শুকনো কাশি ও গলার খুসখুসে ভাব কমাতে যষ্টিমধু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি গ্রহণ করা উচিত নয়।
নিম
প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যের কারণে ত্বকের ব্রণ, চুলকানি ও ছোটখাটো সংক্রমণে নিমের ব্যবহার বেশ পরিচিত।
অশ্বগন্ধা
আয়ুর্বেদে অশ্বগন্ধাকে শক্তি বৃদ্ধি, ক্লান্তি কমানো এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভেষজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি নিয়মিত গ্রহণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
গিলয় (গুডুচি)
গিলয় বা গুডুচিকে আয়ুর্বেদে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ অসুস্থতার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতেও এটি ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প হিসেবে কোনো ভেষজকে বিবেচনা করা উচিত নয়। সঠিক নিয়মে ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলে এসব ভেষজ সুস্থ জীবনযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।



