নিয়মিত মদপান, প্রক্রিয়াজাত ও মিষ্টি খাবারের অতিরিক্ত গ্রহণ এবং কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনযাপন ৪০ বছর বয়সের আগেই লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এসব অভ্যাসের ফলে সৃষ্ট ফ্যাটি লিভার ও সিরোসিস অনেক সময় প্রাথমিক লক্ষণ ছাড়াই লিভারের ৭০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি করে ফেলে।
লিভারের গুরুত্ব ও পুনরুদ্ধার ক্ষমতা
লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি খাদ্য হজমে সাহায্য করা থেকে শুরু করে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া, ভিটামিন ও শক্তি সঞ্চয়— সব কাজেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, লিভার নিজের ক্ষতি অনেকটাই নিজে সারিয়ে তুলতে পারে। তবে দীর্ঘদিন খারাপ অভ্যাস চালিয়ে গেলে এটি আর কাজ করতে পারে না। তখন ফ্যাটি লিভার, লিভারে প্রদাহ— এমনকি সিরোসিসের মতো গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে।
অভ্যাস ১: নিয়মিত মদপান
অনেকেই মনে করেন, অল্প পরিমাণে মদ খেলে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন— লিভারের জন্য অ্যালকোহলের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। প্রতিবার মদপানের পর লিভারকে সেই অ্যালকোহল ভেঙে শরীর থেকে বের করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘদিন এ অভ্যাস চলতে থাকলে প্রথমে লিভারে চর্বি জমে, তারপর প্রদাহ শুরু হয়। চিকিৎসা না হলে ধীরে ধীরে লিভারের কোষ নষ্ট হয়ে সিরোসিস বা লিভার ফেইলিওরের মতো ভয়াবহ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যত কম অ্যালকোহল পান করা যায়, ততই লিভারের জন্য ভালো।
অভ্যাস ২: অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড
বর্তমানে ব্যস্ত জীবনে অনেকেই নিয়মিত চিপস, বার্গার, পিৎজা, কোল্ড ড্রিংকস, কেক, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট নুডলস বা বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে থাকেন। এগুলোকে বলা হয় আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড। এ ধরনের খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ, অস্বাস্থ্যকর তেলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে। নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে, ফলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখন কম বয়সিদের মধ্যেও এ রোগ দ্রুত বাড়ছে। তাই যতটা সম্ভব বাড়ির রান্না, শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভ্যাস ৩: পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া ও দীর্ঘদিন মানসিক চাপ
সারাক্ষণ কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা বা রাতে কম ঘুমও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে শরীরে বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়াম করলে শুধু মনই ভালো থাকে না, লিভারও সুস্থ থাকে।
লিভার ভালো রাখার উপায়
চিকিৎসকরা বলেন, লিভার সুস্থ রাখতে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, জাঙ্ক ফুড কম খাওয়া, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা খুবই জরুরি। এর পাশাপাশি ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত ঘুমও লিভারকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।



