নেপালের একটি হোটেলের সুইমিংপুলের পাশে ঘন সবুজ বেড়ায় পাপড়িমেলা হলুদ ফুল দেখে মুগ্ধ হন লেখক। তিনি রূপার জন্য সেই ফুলের বীজ খুঁজতে থাকেন, কিন্তু পান না। একদিন হঠাৎ বেড়ার ওপাশ থেকে এক লোক এসে দাঁড়ান, যাকে লেখক মালি ভেবে হিন্দিতে ফুলের নাম জানতে চান।
হিন্দি ভাষার ভীতি ও ভুল বোঝাবুঝি
লেখকের হিন্দি বলায় ভীতি আছে। আগে ভারতে থাকাকালীন এক ওয়েটারকে ‘আধুলি’ দেওয়ার পর ‘দেমাগ গড়বড়’ বলে বোঝাতে গিয়ে তিনি রেগে যান। ‘দেমাগ গড়বড়’ মানে পাগল হওয়া, যা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। তাই নেপালের মালির সঙ্গে বাংলা মিশিয়ে হিন্দি বলেন: ‘মেরা এক বিবি হ্যায়... ও দেশমে রাইতা হ্যায়... উনকো লিয়ে ম্যায় ইয়ে গাছকো হলুদ ফুলকা বীজ ঢুরতা হ্যায়।’
মালির কাছ থেকে চারা পাওয়া
মালি কিছু না বলে মোলায়েম চোখে তাকিয়ে থাকেন। পরদিন বিকেলে লেখক আবার বেড়ার কাছে যান, বীজ না পেলে ফুল ও ডাল ভেঙে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন মালি হঠাৎ উপস্থিত হন এবং হাতে একটি ছোট্ট লিকলিকে চারা এগিয়ে দেন, যার গোড়ায় মাটি নেই। লেখক আবেগে মালিকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘ম্যায় তুমকো বহুত পেয়ার করতা হ্যায়।’
দেশে আনা ও রোপণ
লেখক চারাটি ভেজা টিস্যু পেপার ও জিপলক ব্যাগে মুড়ে লাগেজে রেখে দেশে আনেন। রূপা চারাটি হাফড্রামে লাগান। গাছ প্রথম ছয় মাস বাড়ে না, তারপর বাড়তে থাকে কিন্তু পাঁচ বছর ধরে ফুল দেয় না। একদিন রূপার এক মাস ধরে জ্বর আসে।
পাঁচ বছর পর ফুল ফোটা
প্রবল জ্বরে রূপা ছাদবাগানে গেলে দেখে গাছে ফুল এসেছে। লেখক বিস্মিত হন—ফুল হলুদ নয়, বরং নীল ও সাদা মিশেলে অপরাজিতার মতো। রূপা হেসে বলে, ‘এ হচ্ছে বিশ্বকাপ সিজনের ফুল। আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। তাই গাছের হলুদ ফুল হয়ে গেছে নীল-সাদা।’ লেখকের চোখে পানি আসে, তিনি বুঝতে পারেন না আনন্দে না কষ্টে।



